পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলাম মল্লিককে গুম এবং পরবর্তীতে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন তার স্ত্রী মুন্নী আক্তার। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের আইনজীবীর জেরার মুখে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
এদিন ট্রাইব্যুনালে আসামি জিয়াউল আহসানের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটু বাদী মুন্নী আক্তারকে জেরা করেন। জেরার একপর্যায়ে আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন যে, নজরুল ইসলাম মল্লিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল বলে থানা থেকে জানানো হয়েছিল কি না। জবাবে মুন্নী আক্তার দৃঢ়ভাবে তা অস্বীকার করে বলেন, “এই তথ্য সত্য নয়। পুলিশ এবং থানা থেকে আমাদের জানানো হয়েছে যে, আমার স্বামীকে হাত-পা বেঁধে, পেট কেটে সিমেন্টের বস্তায় ভরে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
মুন্নী আক্তার তার জবানবন্দিতে আগেই উল্লেখ করেছিলেন যে, তার স্বামী নজরুল ইসলাম মল্লিক ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ডের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের কারণে তাকে তৎকালীন প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নির্দেশে গুম করা হয়। পরবর্তীতে নির্মমভাবে হত্যার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হন। নিহতের পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে এই বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লড়ে আসছেন।
উল্লেখ্য যে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অসংখ্য অভিযোগ নিয়ে বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নজরুল ইসলাম মল্লিকের এই হত্যাকাণ্ডটি সেই অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সাথে এই গুমের ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, আদালত তা খতিয়ে দেখছেন। মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম আগামী শুনানির দিন নির্ধারিত হবে।
Leave a comment