দেশের সব জেলা পরিষদের স্থাপনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখা থেকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের ১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনার আলোকে জারি করা চিঠিটি দেশের সব জেলা পরিষদের প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব দাপ্তরিক মূল ভবন এবং জেলা পরিষদের আওতাধীন স্থাপনাগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। এর আওতায় জেলা পরিষদ ভবন, অডিটোরিয়াম, ডাকবাংলো, হাট-বাজারসহ অন্যান্য ভবন রয়েছে।
প্রতিটি স্থাপনায় ন্যূনতম দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ কাজে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অথবা রাজস্ব তহবিলের অর্থ ব্যয় করা যাবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে।
নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে পাওনা হবে। এতে জেলা পরিষদগুলোর রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বয়ংসম্পূর্ণ জেলা পরিষদগুলোকে নিজস্ব রাজস্ব ও এডিপির অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিতের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে এর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়—এমন জেলা পরিষদগুলো বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি বাস্তবায়ন গাইডলাইন অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।
এ ছাড়া সৌর প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছরের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে জেলা পরিষদগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
Leave a comment