পটুয়াখালীর গলাচিপায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়ভাবে আয়োজিত কালিকাপুর মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ চলাকালে এ সংঘর্ষ হয়। খেলায় দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেড ও মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশ অংশ নেয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খেলা শেষ হওয়ার প্রায় ১০ মিনিট আগে দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেড গোল করলে প্রতিপক্ষ দল ফাউলের দাবি তোলে। এ নিয়ে রেফারির সঙ্গে তাদের তর্ক হয়। পরে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে স্থানীয় লোকজনও এতে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেডের অধিনায়ক মিরাজ খান (৩০) ও তাঁর ভাই মিশন খান (২৭) গুরুতর আহত হন। মিশনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং মিরাজকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা কালিকাপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন খানের ছেলে।
এ ছাড়া জলিল খান (৬০), মজিবর প্যাদা (৪৮), লাল মিয়া (৫২), বেল্লাল মুন্সি (২৭), রাসেল গাজী (৩২), হান্নান মৃধা (৬০), কামাল (৪৫), সাইফুল কাজী, সানাউল্লাহ (২৮), আবুল হাওলাদার (৬০), সাকিল (২৫), রাখাইন ডিস্কু, জাকির হোসেন (৩৫), কবির হোসেন (৩৮), আলমগীর হোসেন (৩৭), আরিয়ান তালুকদার (১৮), মানিক (২৫) ও রনিসহ অনেকে আহত হন। তাঁদের অধিকাংশকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতদের পিতা আবুল হোসেন খান বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাটিভাঙ্গা এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ফুটবল টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কামাল মৃধা বলেন, ‘মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টে ৩২টি দল অংশ নিয়েছে। বুধবারের ঘটনায় মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশের দায় রয়েছে। তাদের কারণে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। কমিটির সদস্যদের ওপরও হামলা করা হয়েছে।’
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Leave a comment