জাপানে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা কেনার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে বা অনলাইনে ক্রেতাদের প্রস্তাব ও অনুসন্ধানকে শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ করেছে দেশটির আইন মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ প্যানেল।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চূড়ান্ত করা এক প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়। ১৯৫৬ সালে প্রণীত জাপানের পতিতাবৃত্তিবিরোধী আইন সংস্কারের ক্ষেত্রে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান আইনে প্রকাশ্য স্থানে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা দেওয়ার জন্য ক্রেতা খোঁজা বা এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়া শাস্তিযোগ্য। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ২০ হাজার ইয়েন পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে যৌনসেবা নিতে আগ্রহী ক্রেতাদের পক্ষ থেকে একই ধরনের অনুসন্ধান বা প্রস্তাবের জন্য বর্তমানে সমতুল্য কোনো শাস্তির বিধান নেই।
বিশেষজ্ঞ প্যানেল বলছে, এই আইনি অসমতা দূর করা প্রয়োজন। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় প্রকাশ্য স্থানে যৌনসেবার জন্য ক্রেতা খোঁজা, সম্ভাব্য যৌনসেবা প্রদানকারীদের উদ্দেশ্যে ঘোরাফেরা বা অনুসন্ধান এবং ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়াকে শাস্তিযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে।
তবে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে সংঘটিত যৌনসেবা কেনাবেচার পুরো কর্মকাণ্ডকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুপারিশ করেনি প্যানেল। এ ধরনের ব্যাপক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাপানের আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যৌনসেবা ও পতিতাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেলটি চলতি বছরের মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করে আসছে। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নবম বৈঠকে আলোচনার প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টোকিওসহ জাপানের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে যৌনসেবার জন্য ক্রেতা খোঁজার ঘটনা সামাজিক উদ্বেগের কারণ হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতার যোগাযোগ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
নতুন সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে যৌনসেবা প্রদানকারীর পাশাপাশি ক্রেতার পক্ষ থেকেও এ ধরনের প্রকাশ্য বা অনলাইন কর্মকাণ্ড প্রথমবারের মতো শাস্তির আওতায় আসতে পারে।
তবে কোন কোন কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এর জন্য কী ধরনের শাস্তি নির্ধারণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা ও এর বিষয়বস্তু নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জাপানের আইন মন্ত্রণালয়।
জাপানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি শরতেই সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: জাপানের আইন মন্ত্রণালয়, কিয়োডো নিউজ, টিভি আসাহি
Leave a comment