সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে একটি বহুতল আবাসিক ভবনের ২২ তলা (আবাসিক অংশের ১৫ তলা) থেকে নিজের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে নিচে ছুঁড়ে ফেলে হত্যা করেছেন এক ভারতীয় প্রবাসী নারী। সন্তানকে ফেলে দেওয়ার পরপরই তিনি নিজেও লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এই লোমহর্ষক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (২০ মে) সংশ্লিষ্ট ভবনের নিচে ওই মা ও তাঁর সন্তানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের উভয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহত মায়ের বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ওই ভবনের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, আল-নাদহা এলাকার ৩২ তলা বিশিষ্ট ওই উঁচু ভবনের প্রথম ছয় তলা জুড়ে রয়েছে গাড়ি পার্কিং ও ব্যায়ামাগার (জিম)। এর ওপর থেকে শুরু হয়েছে আবাসিক ফ্ল্যাটসমূহ। ওই ভবনের নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, সকালের দিকে হঠাৎ তারা ওপর থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার বিকট শব্দ শুনতে পান। শব্দ শুনে দ্রুত বাইরে গিয়ে তারা দেখতে পান, সড়কের ওপর ওই শিশুটির এবং পাশের ফুটপাথে মায়ের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে রয়েছে।
নিরাপত্তারক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বিভাগে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সকাল ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত পুরো ভবনটি অবরুদ্ধ (লকডাউন) করে রাখে এবং আলামত সংগ্রহ করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনার ঠিক একদিন আগে ওই নারী ও তাঁর স্বামীর মধ্যে তীব্র পারিবারিক কলহ ও ঝগড়া হয়েছিল। সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকেও ডাকা হয়েছিল। ভবনের নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে ওই ব্যক্তির স্বামী অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
নিহত নারীর স্বামী দুবাইয়ের একটি সংস্থায় কর্মরত আছেন। এই ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তাঁকে নিজেদের জিম্মায় নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটির বিস্তারিত ও নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে।
Leave a comment