জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট তিনটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারামুক্ত হয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। বৃহস্পতিবার তাঁকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আরও পাঁচটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও গ্রেপ্তার না দেখানো নিয়ে আইনজীবীদের একটি অংশ প্রশ্ন তুলেছেন।
জানা গেছে, তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মোট আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ওয়ারী থানার একটি ছাড়া বাকি সাতটিতে তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। ওয়ারী থানার প্রতারণা মামলা এবং যাত্রাবাড়ী ও বাড্ডা থানার দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও, রামপুরা থানার একটি হত্যা মামলা এবং বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও বনানী থানার চারটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তিনি প্রায় ১১ মাস কারাগারে ছিলেন। প্রথমে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে বাড্ডা থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলার তদন্ত শেষে তাঁর অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওয়ারী থানার প্রতারণা মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর আপিল বিভাগও সেই জামিন বহাল রাখেন। সর্বশেষ ২১ জুলাই ওয়ারী থানার প্রতারণা মামলায় ঢাকার একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তাঁর মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় এজাহারভুক্ত অন্য মামলাগুলোতে কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার না দেখানো হলে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, কোনো মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো বাধ্যতামূলক নয়। তদন্তের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর মতে, আসামি কারামুক্ত হলেও মামলার তদন্তে কোনো আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে না।
কারা অধিদপ্তরের মিডিয়া উইং জানিয়েছে, আদালতের দেওয়া জামিনের নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তৌহিদ আফ্রিদিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
Leave a comment