গাজীপুরের শ্রীপুরে সাফারি পার্ক থেকে দুটি রিং-টেইলড লেমুর চুরির ঘটনায় ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানির প্রতিষ্ঠিত বনতারা কর্তৃপক্ষের নাম আসার পর নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বনতারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাফারি পার্ক থেকে লেমুর চুরির ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে তারা অবগত। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নোটিশ বা অনুরোধ পায়নি তারা।
বনতারা আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, তাদের কারও সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ বা লেনদেন হয়নি। তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রতিটি প্রাণী ভারতের আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী রাখা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের কাছে থাকা রিং-টেইলড লেমুরগুলোর সম্পূর্ণ নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনে তারা প্রস্তুত। একই সঙ্গে লেমুরগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিকভাবে ডিএনএ যাচাইয়ের উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছে তারা। আইনসম্মত যেকোনো অনুরোধে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে বনতারা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুর ভারতে নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। তদন্তে প্রাণী দুটির অবস্থান বনতারা এলাকায় শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলো বাংলাদেশ থেকে চুরি যাওয়া লেমুর কি না, তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ জন্য ডিএনএ প্রোফাইলের বিষয়টি সামনে এলেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ, গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা ওই দুটি লেমুরের ডিএনএ প্রোফাইল আগে থেকে সংরক্ষণ করা হয়নি।
বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী জানিয়েছেন, তাদের ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহের সক্ষমতা রয়েছে। বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের ফরেনসিক ল্যাবও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করে খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে (ডিএফও) বলা হয়েছে।
বন্য প্রাণী চোরাচালান শনাক্ত এবং পাচার হওয়া প্রাণী দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ডিএনএ প্রোফাইল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে। একই প্রজাতির একাধিক প্রাণীর মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণী কোথা থেকে এসেছে, তা শনাক্ত করতেও এটি কার্যকর।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান বলেন, সব প্রাণীর না হলেও মূল্যবান প্রাণীগুলোর অন্তত ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করা উচিত। লেমুর দুটির ডিএনএ প্রোফাইল আগে থেকে সংরক্ষিত থাকলে বর্তমানে প্রাণী দুটির পরিচয় নিশ্চিত করে সেগুলো বাংলাদেশের বলে দাবি প্রতিষ্ঠা করা সহজ হতো।
গাজীপুর সাফারি পার্কের লেমুরগুলো ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে জব্দ করা হয়েছিল। পরে বন বিভাগের নির্দেশে সেগুলো সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। সেখানে লেমুরের ছানাও জন্ম নেয়। ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি লেমুর মারা যায়। এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে দুটি লেমুর চুরি হয়।
এ ঘটনায় করা মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।
আরটিভি/এসকে
Leave a comment