সময়টা সকাল ৮টা ৪৬ মিনিট। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর তখন আর দশটা দিনের মতোই ব্যস্ত। অফিসগামী মানুষের ভিড়, স্কুলে যাওয়ার তাড়া, সড়কে যানজট—সবই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই বদলে যায় সবকিছু। ইতিহাসে দিনটি পরিচিত হয়ে ওঠে ‘৯/১১’ নামে।
সেদিন চারটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাই করে হামলা চালানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে দুটি বিমান। তৃতীয়টি আঘাত করে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
হামলায় নিহত হন ২ হাজার ৯৭৭ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন দেশের নাগরিক, অফিসকর্মী, পথচারী, উদ্ধারকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। হামলার পর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থাই বদলে যায়নি; বদলে যায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অভিবাসননীতি, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা এবং মুসলিমদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও।
যেভাবে ঘটেছিল হামলা
১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৫৯ মিনিটে বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১। কিছুক্ষণ পর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ছিনতাইকারীরা নিয়ে নেয়।
সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে একই বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১৭৫। সেটিও পরে ছিনতাই করা হয়।
সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৭৭ এবং সকাল ৮টা ৪২ মিনিটে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩ উড্ডয়ন করে। পরবর্তী সময়ে এই দুটি বিমানও ছিনতাই করা হয়।
সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে ফ্লাইট ১১ নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে আঘাত করে। প্রথমে অনেকে এটিকে দুর্ঘটনা মনে করেছিলেন। তবে ১৭ মিনিট পর সকাল ৯টা ৩ মিনিটে ফ্লাইট ১৭৫ সাউথ টাওয়ারে আঘাত করলে স্পষ্ট হয়ে যায়, এটি পরিকল্পিত হামলা।
সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে ফ্লাইট ৭৭ পেন্টাগনে আঘাত করে। এর ২২ মিনিট পর সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটে ধসে পড়ে সাউথ টাওয়ার। সকাল ১০টা ৩ মিনিটে ফ্লাইট ৯৩ পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে ধসে পড়ে নর্থ টাওয়ার।
ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রী ও ক্রুরা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তদন্তে ধারণা করা হয়, বিমানটির লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবন বা হোয়াইট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থাপনা। যাত্রীদের প্রতিরোধের কারণে বিমানটি সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।
প্রাণহানি ও ধ্বংস
৯/১১ হামলায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। এর মধ্যে নিউইয়র্কে ২ হাজার ৭৫৩ জন, পেন্টাগনে ১৮৪ জন এবং ফ্লাইট ৯৩-এর ঘটনায় ৪০ জন নিহত হন।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে ৩৪৩ জন ফায়ার সার্ভিসকর্মী এবং ৬০ জনের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারান।
হামলার সময় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমপ্লেক্সে হাজার হাজার মানুষ ছিলেন। ধসে পড়া টুইন টাওয়ারের পাশাপাশি আশপাশের আরও কয়েকটি ভবনও ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলে পরবর্তী কয়েক মাস। ২০০২ সালের ৩০ মে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাউন্ড জিরোর ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কারের কাজ শেষ হয়।
তবে ৯/১১-এর ক্ষয়ক্ষতি শুধু সেদিনের প্রাণহানিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ধ্বংসস্তূপ থেকে ছড়িয়ে পড়া ধুলা ও বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসা উদ্ধারকর্মী, বাসিন্দা ও অন্যদের অনেকে পরবর্তী সময়ে শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ক্যানসারে আক্রান্ত হন।
কারা ছিল হামলার পেছনে
যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানে ৯/১১ হামলার জন্য আল-কায়েদাকে দায়ী করা হয়। সংগঠনটির নেতা ওসামা বিন লাদেন হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা পরে প্রকাশ্যে স্বীকারও করেন।
হামলার ১৯ জন ছিনতাইকারীর সবাই নিহত হন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই সৌদি আরবের নাগরিক ছিলেন। তদন্তে উঠে আসে, হামলাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে উড়োজাহাজ চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে হামলার প্রস্তুতি চালিয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে গঠিত ৯/১১ কমিশন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতি এবং হামলার হুমকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করার বিষয়টি তুলে ধরে।
বদলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা
হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। বিমানবন্দরে যাত্রী ও লাগেজ তল্লাশি কঠোর করা হয়। ২০০১ সালের অক্টোবরে ‘ইউএসএ প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট’ পাস করা হয়। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ক্ষমতা বাড়ানো হয় এবং নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের পরিধি বিস্তৃত হয়।
তবে এসব পদক্ষেপ নিয়ে নাগরিক অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার প্রশ্নও ওঠে। সমালোচকেরা অভিযোগ করেন, সন্ত্রাস দমনের নামে মুসলিম ও আরব বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের ওপর নজরদারি ও হয়রানি বেড়ে যায়।
মুসলিমদের ওপর বৈষম্যের নতুন অধ্যায়
৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ও আরব বংশোদ্ভূত মানুষের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও ঘৃণামূলক অপরাধ বেড়ে যায়। বিভিন্ন মসজিদে হামলা, ভাঙচুর এবং মুসলিমদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ ২০০০ সালের ২৮টি থেকে ২০০১ সালে বেড়ে ৪৮১টিতে দাঁড়ায়। পরের বছর তা কমে ১৫৫-এ নেমে এলেও পরবর্তী সময়ে আবার বিভিন্ন পর্যায়ে বেড়েছে।
হামলার ছয় দিন পর, ২০০১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ওয়াশিংটনের ইসলামিক সেন্টারে গিয়ে মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে না।
তবে ৯/১১-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসলামভীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। বিশেষ করে ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে মুসলিমদের নিয়ে নানা বক্তব্য ও নীতির কারণে এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা
২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েকটি মুসলিম-অধ্যুষিত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেন। আদালতে এ আদেশ চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে সংশোধিত সংস্করণ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন পায়।
২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়।
সমালোচকেরা বলেছিলেন, এ ধরনের নীতি মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস প্রতিরোধের জন্য এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।
মুসলিমদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব
বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে।
২০০৬ সালে মিনেসোটা থেকে ডেমোক্র্যাট কিথ এলিসন প্রথম মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে কংগ্রেসে নির্বাচিত হন।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনসংখ্যা ও মসজিদের সংখ্যাও বেড়েছে। ফলে দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে মুসলিমদের দৃশ্যমানতাও আগের তুলনায় বেড়েছে।
‘ইসরায়েল আগে থেকেই জানত’—দাবিটি কতটা সত্য?
৯/১১ নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বহু বছর ধরেই প্রচলিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসনও দাবি করেছেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা হামলার আগে এর বিষয়ে কিছু তথ্য জানত।
কার্লসন ‘ইসরায়েলি আর্ট স্টুডেন্টস’ নামে পরিচিত একটি ঘটনার প্রসঙ্গও সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিক সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং তাঁদের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল।
তবে এসব দাবি থেকে ইসরায়েল ৯/১১ হামলার পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নে জড়িত ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তদন্ত ও ৯/১১ কমিশনের প্রতিবেদনে হামলার জন্য আল-কায়েদাকেই দায়ী করা হয়েছে।
তাই ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের আগাম তথ্য থাকার দাবিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে নয়, বরং বিতর্কিত ও অপ্রমাণিত দাবি হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’
৯/১১-এর পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে। তালেবান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলেও যুদ্ধ চলে প্রায় দুই দশক।
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে। ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগকে যুদ্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়েছিল। পরে ইরাকে এমন অস্ত্রের মজুতের দাবির পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আফগানিস্তানে প্রায় ২০ বছর অবস্থানের পর ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর দ্রুত আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান।
৯/১১-এর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সন্ত্রাসবিরোধী আইন কঠোর করে। সীমান্ত, বিমানবন্দর ও আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। তবে এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি মানবাধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা ও যুদ্ধের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
নিহত হন ওসামা বিন লাদেন
৯/১১ হামলার প্রায় এক দশক পর, ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন নেভি সিলের বিশেষ অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হন।
তাঁকে হত্যার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখলেও, এর মাধ্যমে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
৯/১১-এর দীর্ঘ ছায়া
দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ৯/১১-এর প্রভাব এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের রাজনীতিতে স্পষ্ট। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সহযোগিতা, অভিবাসননীতি, সামরিক অভিযান ও নাগরিক স্বাধীনতা—বহু ক্ষেত্রে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে।
এই হামলার পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও ইসলামভীতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আফগানিস্তান ও ইরাকে সামরিক অভিযানের মানবিক ও রাজনৈতিক মূল্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
৯/১১ শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার নাম নয়। এটি এমন একটি ঘটনা, যার অভিঘাত একটি প্রজন্মের নিরাপত্তাবোধ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং বিশ্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্ককে বদলে দিয়েছে।
২৫ বছর পরও তাই ১১ সেপ্টেম্বরের সেই সকাল ফিরে আসে নানা প্রশ্ন নিয়ে—কীভাবে হামলাটি সম্ভব হয়েছিল, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কোথায় ব্যর্থতা ছিল এবং এর পরের দুই দশকের যুদ্ধ ও নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো বিশ্বকে কোথায় নিয়ে গেছে। এসব প্রশ্নের কিছু উত্তর মিললেও ৯/১১-এর রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি।
Leave a comment