গত শুক্রবার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিকটবর্তী জলাশয় থেকে নিখোঁজ পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহম্মেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর, আজ সোমবার একই এলাকা থেকে মানুষের খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। উদ্ধারকৃত এই অংশগুলো নিখোঁজ অপর শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির কি না, তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পিনেলাস কাউন্টি শেরিফ অফিসের সঙ্গে যৌথ অভিযানের সময় জলাশয় থেকে এই দেহাবশেষগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অংশগুলো বর্তমানে পিনেলাস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ড্রোন ও ডুবুরি দলের সহায়তায় তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি, তবে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির সন্ধানে থাকা তদন্তকারীরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
লিমন হত্যার তদন্তে নেমে পুলিশ তার প্রাক্তন রুমমেট এবং সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির (ইউএসএফ) প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিশাম সালেহ আবুগারবিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। গত শুক্রবার সকালে একটি পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছের একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযানে যায়। সেখানে হিশাম নিজেকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখলে সোয়াট (SWAT), বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং ক্রাইসিস নেগোশিয়েশন টিম মোতায়েন করা হয়। অবশেষে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃত হিশামের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা, মৃত্যুর সংবাদ গোপন করা এবং বেআইনিভাবে মৃতদেহ সরানোর মতো ছয়টি সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হিশাম ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইউএসএফ-এর শিক্ষার্থী ছিলেন এবং লিমনের সাথে একই অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন।
হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার এই ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “এটি পুরো কমিউনিটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই নিরাপদ সমাধানের আশা করেছিলেন, কিন্তু মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমাদের গোয়েন্দারা নিরলসভাবে কাজ করছেন এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।”
জামিল আহমেদ লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডির শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে, নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, এর পেছনে গভীর কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতে পারে। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলেই খণ্ডিত দেহাবশেষের প্রকৃত পরিচয় এবং নাহিদা বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্যের জট খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ‘ফাস্ট ডিগ্রি মার্ডার’ হলো সবচেয়ে মারাত্মক অপরাধ। এই আইনে অভিযুক্ত হওয়ার অর্থ হলো অপরাধী অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এবং আগে থেকে পরিকল্পনা করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ফ্লোরিডার বিচার ব্যবস্থায় এই অপরাধের জন্য কেবল দুটি শাস্তির বিধান রয়েছে। প্রথমটি হলো প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড এবং দ্বিতীয়টি হলো প্যারোলহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে দণ্ডিত ব্যক্তি কখনোই কারাগার থেকে মুক্তির আবেদন করতে পারেন না এবং তাকে আমৃত্যু জেলের ভেতরেই থাকতে হয়।
Leave a comment