ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের স্থায়ী সেনা উপস্থিতি ও সামরিক স্থাপনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এক অনানুষ্ঠানিক পর্যালোচনায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে থেকে যাওয়া অবশিষ্ট ঘাঁটিগুলোকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রায় দুই দশক পর সামরিক নীতির এই সম্ভাব্য পরিবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কৌশলবিদরা। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাদের সহায়তায় বিশাল নৌবহর, দুটি বিমানবাহী রণতরি এবং বহু যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রাখা হয়েছে। পেন্টাগন সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না আসলেও আগামী বছর থেকেই আঞ্চলিক সামরিক কাঠামো পরিবর্তনের একাধিক বিকল্প রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
সংঘাতের মধ্যে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ পেয়েছে। সাম্প্রতিক আক্রমণে সৌদি আরবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একটি ঘাঁটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতের বেশ কয়েকটি মার্কিন স্থাপনা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ধ্বংসপ্রাপ্ত এসব ঘাঁটির মেরামত ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় পেন্টাগন অনেকগুলো ঘাঁটি আর নতুন করে চালু না করে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন উপস্থিতি কমিয়ে আঞ্চলিক সুরক্ষার মূল দায়িত্ব স্থানীয় মিত্র দেশগুলোর ওপর সঁপে দিতে চায় ওয়াশিংটন। আর অবশিষ্ট মার্কিন স্থাপনাগুলো ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে ভূগর্ভে স্থানান্তর বা পুনঃসংগঠিত করার চিন্তাভাবনা চলছে। তবে সেনা কমানোর এই পরিকল্পনার মাঝেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতা এখনও অনেক দূর। জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিতে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে, এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের দ্রুত ফেরার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
Leave a comment