উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তনের আশঙ্কার মধ্যে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি বলেছে, দেশের নিরাপত্তার জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে থাকার সময় শেষ হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতা কিম মিন-সক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের মতো ‘দয়ালু বড় ভাই’ হিসেবে আচরণ করছে না। দেশটি নিজেদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে কঠোর দর-কষাকষি করছে। তাই সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার এই উদ্বেগের পেছনে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ। ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে আবার বৈঠকের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যয় কমানো এবং উত্তর কোরিয়াকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উসকে না দেওয়ার যুক্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর কথা বলেছেন।
সিউলের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পরিবর্তে পারমাণবিক অস্ত্রের নতুন উৎপাদন সীমিত করার মতো কোনো চুক্তিতে রাজি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে কোনো চুক্তি হলেও যেন দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে না পড়ে, সে জন্য নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি।
তবে একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা এড়িয়ে কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজার পক্ষেও মত দিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।
Leave a comment