গোবিন্দগঞ্জের এক ভাড়া বাসায় রূপসী চেহারার আড়ালে চলছিল অনৈতিক কর্মকাণ্ড। গোপন সংবাদ ও দীর্ঘ নজরদারির পর সেখানে অভিযান চালিয়ে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার চক্রের মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ভিডিও ধারণ ও প্রচারের কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের হীরকপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক ও অবৈধ এ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছিল। শুক্রবার (৩১ জুলাই) গভীর রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি বিশেষ টিম ওই বাসায় আকস্মিক অভিযান চালায়। অভিযানে ভিডিও ধারণের চূড়ান্ত মুহূর্তে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় দুই নারী ও দুই পুরুষকে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- পলাশবাড়ী উপজেলার মামুনী আক্তার (২৪), গোবিন্দগঞ্জের রাকিবুল হাসান রাকিব (৩০), সাদুল্লাপুরের রেজেনা খাতুন সাথী (২৮) এবং সুন্দরগঞ্জের মামুন অর রশিদ (৩০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, নারীরা ভিডিও চিত্রায়নে অংশ নিতেন এবং পুরুষ সদস্যরা লাইটিং, ভিডিও ধারণ ও কারিগরি সহায়তা দিতেন।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে ৪টি দামি স্মার্টফোন, ২টি ওয়াইফাই রাউটার, ট্রাইপড, বিশেষ আলোকসজ্জা বা লাইটিং সরঞ্জামসহ ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো পরবর্তী আইনি তথ্য-প্রমাণের জন্য সাইবার ক্রাইম ইউনিটে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত আইনের বিধানমতে, অশ্লীল ভিডিও তৈরি ও প্রচ্ছন্ন প্রসারে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ডের স্পষ্ট আইন রয়েছে। চক্রটির সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য সহযোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। ভাড়া বাসার আড়ালে অপরাধের এমন কদর্য রূপ প্রকাশ পাওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের মনে স্বস্তি ও সন্তোষ ফিরে এসেছে।
Leave a comment