পুরো দেশকে স্তব্ধ ও বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর পূর্ণ হলো আজ। ঘটনার পর দ্রুততম সময়ে নিম্ন আদালতে রায় এবং পরবর্তীতে হাইকোর্টে সাজা বহাল থাকলেও চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আসামিদের দায়ের করা আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলাটি।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নৃশংস এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলনের মুখে তদন্তে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৩৭ দিনের মাথায় তদন্ত শেষ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর বুয়েটের ২৫ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মূল অভিযুক্ত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নিম্ন আদালতের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্টও আসামিদের সাজা বহাল রাখেন। তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকার কারণে সাজা কার্যকরের প্রক্রিয়া থমকে আছে।
স্বজন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ে আপিল শুনগতির মাধ্যমে রায় কার্যকর করে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন, যেন আবরার ফাহাদ হত্যার পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।
Leave a comment