সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এ জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার নজির রয়েছে। নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামি মহসিন মিয়া ও আরিফ সরকারকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। একইভাবে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের আলোচিত আব্রাহাম খান হত্যা মামলার আসামি মোবারক মণ্ডলকে কাতার থেকে ফিরিয়ে আনে পুলিশ।
তবে সব ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ সম্ভব হয় না। পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি জটিলতার কারণে অনেক সময় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয় বা ব্যর্থ হয়। এর উদাহরণ হিসেবে পুলিশ কর্মকর্তা মামুন এমরান খান হত্যা মামলার আসামি আরাভ খান ও শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তাঁরা।
পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা বলছেন, রেড নোটিশের ভিত্তিতে কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হলেও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, আদালতের সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং মামলার নথিপত্রের ওপর।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, দুদকের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। এসব নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, যথাযথ নথিপত্র উপস্থাপন করা গেলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস বলেন, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা গেলে প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা বাড়ে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলাগুলোর নথি প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব নথি কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুদকের তথ্যমতে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ একাধিক অভিযোগে মামলা ও তদন্ত চলমান রয়েছে।
Leave a comment