আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় মণ্ডপে মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পূজার সার্বজনীন আনন্দ উৎসবে মদ খেয়ে নাচানাচি বা মাতলামি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না; তাৎক্ষণিকভাবে ঘাড় ধরে ধরে নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা ও প্রস্তুতিমূলক সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিস্থিতির উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, “ফেনী একটি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মদ ও হুইস্কির মতো অবৈধ মাদকের প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেশি। তবে পূজাচলাকালীন কেউ মাদক সেবন করে উন্মাদনা বা নাচানাচি করলে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। মণ্ডপে বিশৃঙ্খলাকারীদের ঘাড় ধরে থানায় বা আমাদের বিশেষ মেডিকেল টিমে আনা হবে। সেখানে স্টোমাক ওয়াশ করিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, দু-একজন মাদকসেবীর অপকর্মের কারণে পুরো মণ্ডপের ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট হয় এবং তাদের দেখে অন্য তরুণরাও এমন অপরাধে প্ররোচিত হয়। তাই এবার সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ এবং শহরকেন্দ্রিক পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক বিশেষ নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির স্থানগুলোতেও কড়া নজরদারি বজায় রাখা হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম জানান, পূজা চলাকালে যেকোনো পরিস্থিতি বা সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সামাল দিতে বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হবে। কোনো ধরনের গুজব বা অতিরঞ্জিত সংবাদ ছড়িয়ে যেন অস্থিরতা সৃষ্টি করা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমীন সরকারের সঞ্চালনায় উক্ত প্রস্তুতিমূলক সভায় স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এ বছর ফেনী জেলায় গতবারের চেয়ে ৩টি বেড়ে মোট ১৫৩টি মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
Leave a comment