মামলার প্রকৃত আসামি না হয়েও শুধু নাম ও বাবার নামের মিল থাকায় ২০ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে পটুয়াখালীর মহিপুরের জেলে মো. জলিল হাওলাদারকে। পুলিশ পরিচয়ের অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে যাচাই না করায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলি আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি অবহিত হয়ে জলিল হাওলাদারের জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে পরবর্তী ধার্য তারিখে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার বাদীকে আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের দাবিতে ২০২৩ সালে মো. জলিল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা করেন ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন। ওই মামলায় জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানা পুলিশ স্থানীয় জেলে মো. জলিল হাওলাদারকে ভুলবশত গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
জলিল কারাগারে যাওয়ার পর তাঁর পরিবার বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেয়। পরে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া জলিল ও মামলার প্রকৃত আসামির নাম ও বাবার নাম একই হলেও তাঁদের মায়ের নাম, গ্রাম ও অন্যান্য পরিচয়ে অমিল রয়েছে। পরিবারের দাবি, মামলার প্রকৃত আসামি বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন।
জলিলের জামাতা জাহাঙ্গীর আলম ও আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বাদশা বলেন, গ্রেপ্তারের আগে জাতীয় পরিচয়পত্র, মায়ের নাম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা সঠিকভাবে যাচাই করা হলে একজন নির্দোষ মানুষকে এভাবে ২০ দিন কারাগারে থাকতে হতো না।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, আদালতের পরোয়ানায় আসামির মায়ের নাম, ছবি বা মোবাইল নম্বর না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এ ভুল হয়েছে। বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর জামিনের সুপারিশ করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে পরোয়ানায় আসামির পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখের জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
বিনাদোষে ২০ দিন কারাগারে থাকার ঘটনায় জলিলের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
Leave a comment