জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের ১৯ দিনের মাথায় বিএনপি নেতা সুজন মণ্ডলের স্ত্রী সুমি আক্তারকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ উঠেছে এমদাদুল হক অরচন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় অরচনকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার এজাহার অনুযায়ী, সুমি ও অরচন সম্পর্কে পাতানো মামা-ভাগনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সুজন মণ্ডলের সঙ্গে সুমি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সুমিকে প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার উপহার দেওয়া হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুজনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই অরচন তাঁর স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে আসছিলেন। গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় সুজন বাড়িতে না থাকার সুযোগে অরচন তাঁদের বাড়িতে যান। এ সময় সুমি মাকে দেখতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। সুজনের মা বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে অরচনের সঙ্গে চলে যান তিনি। এ সময় সুমি স্বর্ণালংকারও নিয়ে যান বলে অভিযোগ সুজনের।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরদিন সুজনের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজা সুমিদের বাড়িতে গেলে তাঁর মা জানান, সুমি অরচনের সঙ্গে কলেজে ফরম পূরণ করতে গেছেন। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে পুলিশের সহায়তা চান সুজন।
পরে অভিযোগের ভিত্তিতে জামালপুর শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে অরচনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমি আক্তারকেও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুজনের করা মামলায় দুজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার এমদাদুল হক অরচন মেলান্দহ উপজেলার শাহজাদপুর এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি মেলান্দহ পৌরসভায় গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত। সুমি আক্তার মেলান্দহ পৌরসভার কামদেববাড়ি এলাকার শাহিন মণ্ডলের মেয়ে। আর সুজন ঝাউগড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
সুজন মণ্ডল বলেন, ‘আমি এই প্রতারকদের কঠিন বিচার চাই। আমার সম্মান যা যাওয়ার, গেছে। অরচন পৌরসভায় চাকরি করেন। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি।’
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, এমদাদুল হক অরচন ও সুমি আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
Leave a comment