কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে দোকান ও বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার নম্বর থেকে ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ওই টাকা পাঠানো হয়।
লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, ওসি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ০১৭১২৬৩৭৪১৮-এ ৩০ হাজার টাকা সেন্ড মানি করা হয়। লেনদেনের শনাক্তকরণ নম্বর ডিজে৩২সিপিবি৪০০।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৩ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর এলাকায় মনির কন্ট্রাক্টরের বাড়ি ও দোকানের জায়গা দখলের চেষ্টা করা হয়। এ সময় মুর্শেদ মিয়ার লোকজন সেখানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ও হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে ভাঙচুরের বিষয়ে থানায় ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তার পশ্চিম পাশে অবস্থান করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ যাতে ঘটনাস্থলে না আসে, সে জন্য মুর্শেদ মিয়া ও তাঁর লোকজন ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই দিন বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে মুর্শেদ মিয়ার নম্বর থেকে ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মিয়া জানান, তাঁদের দখলে থাকা বাড়ি ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ওসি তা গ্রহণ করেননি। প্রায় এক সপ্তাহ ওসির কাছে ঘুরেও মামলা করতে না পেরে পরে কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলা করেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমানের মুঠোফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ মুঠোফোনে বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি, বিকাশে টাকা লেনদেন হয়েছে। যদি অভিযোগ আসে, তখন বিকাশ কল সেন্টার থেকে স্টেটমেন্ট এনে যাচাই-বাছাই করে যদি ওসির নম্বরে ঘুষের লেনদেন পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করব।”
Leave a comment