ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। কলকাতা ও রাজ্যের সাত জেলার ১৪২টি আসনে এই ধাপে ভোট হবে। ভোটের মাত্র তিন দিন আগে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে, যেখানে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য দিচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah পশ্চিমবঙ্গে এক সমাবেশে বলেন, “দিদির জামানা শেষ, এবার শুরু হবে বিজেপির জামানা।” তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল শাসনামলে রাজ্যে হাজার হাজার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং শিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা প্রয়োজন।
একই দিনে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী Yogi Adityanath অভিযোগ করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনের “হিসাব নেওয়া হবে” এবং রাজ্যে “গুন্ডারাজ” শেষ করা হবে।
অন্যদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী Himanta Biswa Sarma মন্তব্য করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে আর সরকার গঠন করতে পারবেন না এবং তাকে সরকার করতে হলে “অন্য দেশে যেতে হবে” — যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee এবং বিজেপির বিধায়ক Suvendu Adhikari। দুজনেই পৃথকভাবে প্রচার চালিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে “বসন্তের কোকিল” আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু পরে তা রক্ষা করে না। তিনি দাবি করেন, বিজেপির প্রচারণা পশ্চিমবঙ্গে সফল হবে না এবং তৃণমূলই ক্ষমতায় থাকবে।
এদিকে কংগ্রেস নেতা Rahul Gandhi বিজেপি ও তৃণমূল উভয়কেই আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজ্যে ভোট কারচুপির মাধ্যমে বিজেপি জয় পেয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গেও একই চেষ্টা চলছে।
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, দুই দলই বড় বড় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা পূরণ করেনি। তার মতে, সারদা ও রোজভ্যালির মতো আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো পক্ষই দায় নেয়নি।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মাঠ এখন চরম উত্তপ্ত, যেখানে প্রধান তিন রাজনৈতিক শক্তি একে অপরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
Leave a comment