চাঁদপুরের কচুয়ায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে রোববার শ্রেণি কার্যক্রম বর্জন করে বিক্ষোভ করেছেন তুলপাই দারাশাহী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. নাছির আহমেদ গাজী ওই বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন। পরে তাঁরা তুলপাই বাজারসহ আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ের মাঠে অবস্থান নেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা।
বিক্ষোভ শেষে মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিযোগ তদন্তে দ্রুত কমিটি গঠন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সাময়িকভাবে বিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত রাখা।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহাত পাটোয়ারী ও মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, এর আগেও অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তবে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁরা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার ও রাখি রানী অভিযোগ করেন, শিক্ষক নাছির আহমেদ গাজী তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেছেন। তাঁরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য জুয়েল পাটোয়ারী বলেন, অতীতেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে কয়েকবার তাঁকে সতর্ক করা হলেও অভিযোগ অনুযায়ী পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।
অভিভাবক মো. জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁর ভাতিজির সঙ্গে অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করায় অভিযুক্ত শিক্ষক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. নাছির আহমেদ গাজী বর্তমানে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি তাঁকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিল। রোববার হঠাৎ করে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নামে। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলী আশরাফ খান বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্লাসে ফিরিয়ে দেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a comment