নাজমুল হাসান, মাদারীপুর
মাদারীপুর সদর উপজেলায় যৌতুকের দাবির টাকা না দেওয়ায় সুমি আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে স্বামী আকবর হাওলাদারসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে সুমির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সুমি আক্তার মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পূর্ব দর্শনা এলাকার চান্দু মোল্লার মেয়ে। প্রায় আড়াই বছর আগে উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের ইরান হাওলাদারের ছেলে আকবর হাওলাদারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সুমির পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। টাকা দিতে না পারায় সুমির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।
তাদের দাবি, রোববার রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী আকবরের সঙ্গে সুমির কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘরে ফেলে রাখা হয়। সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। এর আগেই আকবরসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান বলে স্বজনরা জানান।
খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গৃহবধূর শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এরপর সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় স্থানীয় ও নিহতের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযুক্ত স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a comment