বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে সাধারণত খেলোয়াড় ও সমর্থকদের আগ্রহ খুব বেশি থাকে না। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও সেটিই স্বীকার করেছেন।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর টুখেল বলেন, ‘আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই ম্যাচটা খেলতে চায় না। ফ্রান্সের খেলোয়াড়েরাও নয়। সবাই ফাইনালেই খেলতে চায়।’
স্পেনের কাছে হেরে ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার কাছে হেরে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ থেকে শিরোপার লড়াইয়ে ছিটকে গেছে। তবে দুটি দলের টুর্নামেন্ট শেষ হয়নি। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা।
যদিও ম্যাচটি নিয়ে আগ্রহ তুলনামূলক কম, তবে চারজন ফুটবলারের জন্য এটি হতে পারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই ম্যাচে করা গোলও বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।
এ মুহূর্তে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজনেরই গোল আটটি। তবে একটি বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় এগিয়ে আছেন মেসি।
নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের গোল সাতটি। তবে কোয়ার্টার ফাইনালেই নরওয়ে বিদায় নেওয়ায় তাঁর আর গোল বাড়ানোর সুযোগ নেই।
ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের গোল ছয়টি করে। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলের গোল পাঁচটি। ফলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেই গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ একাধিকবার গোল্ডেন বুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জার্মানির টমাস মুলার (২০১০), ক্রোয়েশিয়ার ডাভর শুকার (১৯৯৮), ইতালির সালভাতোরে স্কিলাচি (১৯৯০) এবং ব্রাজিলের লিওনিদাস (১৯৩৮) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন।
এ ছাড়া পোল্যান্ডের গ্রেজেগোর্জ লাতো (১৯৭৪), পর্তুগালের ইউসেবিও (১৯৬৬) এবং ফ্রান্সের জুস্ত ফঁতেন (১৯৫৮) এই ম্যাচে গোল করেছিলেন। যদিও ওই গোল ছাড়াও তাঁরা গোল্ডেন বুট জিততেন।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক খেলোয়াড় সমান গোল করলে প্রথমে বিবেচনা করা হয় অ্যাসিস্টের সংখ্যা। সেখানেও সমতা থাকলে কম মিনিট খেলে কে সেই গোল করেছেন, সেটি দেখা হয়।
তাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যাম ও উসমান দেম্বেলের সামনে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপর বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি, তখন তাঁর সামনে লক্ষ্য থাকবে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করা।
Leave a comment