নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় তিন সন্তানকে রেখে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর মা চারজনের বিরুদ্ধে চাটখিল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নিখোঁজ ওই নারীর নাম নিশাত আক্তার (৩০)। তাঁর স্বামী কানাডাপ্রবাসী। নিশাতের সঙ্গে চাটখিল দক্ষিণ বাজার এলাকার একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. রিয়াজ হোসেনের সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
থানায় দেওয়া অভিযোগ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার হাটপুকুরিয়া-ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা নিশাত আক্তার স্বামী বিদেশে থাকায় তিন সন্তানকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ জুন দুপুর আড়াইটার দিকে রিয়াজ হোসেন নিশাত আক্তারকে নিয়ে চলে যান। যাওয়ার সময় নিশাত তাঁর তিন সন্তানকে নানার বাড়িতে রেখে যান।
পরিবারের দাবি, ঘর ছাড়ার সময় নিশাত নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, প্রায় ১৪ জোড়া কানের দুল, ছয়টি আংটি, একটি চেইন, দুটি ব্রেসলেটসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যান। এ ছাড়া একটি স্কুটি, টেলিভিশন, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস, হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রীও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরে নিশাতের কক্ষ তল্লাশি করে নিশাত ও রিয়াজ হোসেনের নামে একটি হলফনামা উদ্ধার করা হয়। তাঁদের দাবি, ওই হলফনামা অনুযায়ী গত ৪ মে তাঁরা বিয়ে করেছিলেন। এ বিষয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, বিষয়টি গোপন রেখে পরিকল্পিতভাবে অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় নিশাত আক্তার, রিয়াজ হোসেন, রিয়াজের বাবা খোরশেদ আলম এবং মা কুলছুম আক্তারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন নিশাতের মা নাজমা আক্তার।
নাজমা আক্তার বলেন, তাঁর মেয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে চলে গেছেন। পরে কক্ষ তল্লাশি করে একটি হলফনামা পাওয়া যায়। এ কারণে তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।
নিশাতের ভাই ফাহাদ হাসান বলেন, তাঁর দুলাভাই কানাডাপ্রবাসী। পরিবারের দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রিয়াজ হোসেন ও নিশাত আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
Leave a comment