যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণ করলেই স্বাভাবিক নিয়মে দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক আইনটি অবশেষে বহাল থাকল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক জন্মগত নাগরিকত্ব বাতিলের বিতর্কিত নির্বাহী আদেশটি বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের এক গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটিতে ট্রাম্পের ওই আদেশটি আইনি ভিত্তি হারিয়ে খারিয হয়ে যায়।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা ওই নির্বাহী আদেশটি বাতিল ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ট্রাম্প এই কড়া অভিবাসন নীতি কার্যকর করেছিলেন। তবে সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ আবার সুগম হলো।
মূলত যেসব অবৈধ অভিবাসী কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং সেখানে সন্তান জন্ম দেন, তাদের সন্তানদের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ঠেকানোই ছিল ট্রাম্পের এই আদেশের প্রধান লক্ষ্য। তবে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই কঠোর পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেওয়ায় ধাক্কা খেয়েছে তার অভিবাসনবিরোধী এজেন্ডা। আইনি বিশ্লেষকদের ধারণা, আদালত এই আদেশ বাতিল করায় অবৈধ অভিবাসন রুখতে ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো ভবিষ্যতে সীমান্তে কড়াকড়ি বা অন্য কোনো বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করবে।
আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়টি লিখেছেন মার্কিন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। তিনি তার পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে কিংবা সাময়িকভাবে অবস্থান করা যেসব বাবা-মায়ের সন্তান এই দেশের মাটিতে জন্ম নেবে, দেশের মূল সংবিধান অনুযায়ী তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে। এখানে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই।
নিজের রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস মার্কিন সংবিধানের ঐতিহাসিক ১৪তম সংশোধনীর প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের (সিভিল ওয়ার) সময় মূলত মুক্ত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সাবেক কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করতে এই বিশেষ সংশোধনী আনা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিল, দেড় শতাব্দী প্রাচীন এই সাংবিধানিক অধিকার কোনো প্রেসিডেন্টের একক নির্বাহী আদেশে কেড়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
Leave a comment