ভারতের ঝাড়খণ্ডে অফিস থেকে চা-পাতা ও বিস্কুট বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া এক পিয়নকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁর বকেয়া বেতনের ৫০ শতাংশ পরিশোধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, বোকারো জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিএ) চুক্তিভিত্তিক কর্মী রঞ্জিত কুমার হিমাংশু প্রায় ১৭ বছর ধরে পিয়ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২২ সালে অফিস থেকে অবশিষ্ট চা-পাতা ও বিস্কুট বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পরে চাকরি বাতিল করা হয়।
প্রধান বিচারপতি এম এস সোনাক ও বিচারপতি রাজেশ শঙ্করের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, শাস্তি অপরাধের গুরুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। সামান্য অভিযোগে, যেখানে সরকারের বড় ধরনের কোনো ক্ষতির প্রমাণ নেই, সেখানে চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর শাস্তি উপযুক্ত নয়।
আদালতে রঞ্জিতের আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল অফিসে অবশিষ্ট থাকা সামান্য চা-পাতা ও বিস্কুট বাড়িতে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পর তিনি সেগুলো অফিসে ফিরিয়েও দেন। এরপরও ২০২২ সালের ২ মে তাঁর চুক্তিভিত্তিক চাকরি বাতিল করা হয়।
রায়ে হাইকোর্ট বলেন, প্রশাসন শাস্তি দেওয়ার আগে কর্মীর দীর্ঘদিনের চাকরির রেকর্ড এবং অভিযোগের প্রকৃতি যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি।
আদালত আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে রঞ্জিত কুমার হিমাংশুকে চাকরিতে পুনর্বহাল এবং ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁর বকেয়া বেতনের ৫০ শতাংশ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।
Leave a comment