যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণাকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরান এই ঘোষণাকে ‘অর্থহীন’ এবং ‘প্রতারণামূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। দেশটির নীতি নির্ধারকদের মতে, একদিকে আলোচনার কথা বলে অন্যদিকে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতিরই নামান্তর।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী মার্কিন এই কূটনৈতিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “পরাজিত কোনো পক্ষ কখনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। ট্রাম্পের এই তথাকথিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অবরোধ এবং বোমা বর্ষণ—দুটিই ধ্বংসাত্মক। তার ভাষায়, “অবরোধ অব্যাহত রাখা সরাসরি বোমাবর্ষণের চেয়ে আলাদা কিছু নয়। এটি ইরানের জনগণের ওপর এক ধরণের নীরব যুদ্ধ।”
মাহদি মোহাম্মদী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ট্রাম্পের এই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূলত একটি ‘আকস্মিক হামলার’ জন্য সময় কিনে নেওয়ার অপকৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটন এই বিরতি ব্যবহার করে পারস্য উপসাগরে তাদের সামরিক শক্তিবৃদ্ধি করছে।
বিদ্যমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে অবিলম্বে পাল্টা উদ্যোগ নেওয়া এবং সামরিকভাবেই এর জবাব নিশ্চিত করার উপযুক্ত সময় চলে এসেছে বলে তিনি জোর দাবি জানান। তার এই বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তেহরান সামনের দিনগুলোতে পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালিতে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কথা উল্লেখ করে যুদ্ধবিরতির কথা বললেও নৌ অবরোধ বহাল রাখায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনড় অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তেহরান যদি সামরিক জবাবের পথে হাঁটে, তবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
Leave a comment