পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার (২২ এপ্রিল) এক নির্বাচনী জনসভা থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপি ভোটারদের ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে তাঁদের পক্ষে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য করছে ।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, বিজেপি ভিন রাজ্য থেকে লোক এনে ভোটারদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “যারা বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসছেন, তাদের দিয়ে গীতা এবং কুরআন ছুঁইয়ে শপথ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে যে তারা বিজেপিকেই ভোট দেবেন।” মমতার মতে, এটি ভোটারদের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের একটি ঘৃণ্য প্রচেষ্টা।
বিজেপির এই কথিত শপথের পাল্টা কৌশলও বাতলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যারা চাপের মুখে বা ধর্মীয় দোহাই দিয়ে শপথ নিয়েছেন, তাঁদের অভয় দিয়ে তিনি বলেন: “আপনাকে ছোঁয়ালো বলেই আপনি ওটা বিশ্বাস করে নিলেন? আমি তাঁদের বলব, যদি আপনাকে কুরআন ছোঁয়ানো হয়, তবে মসজিদে গিয়ে আল্লাহতালার কাছে দোয়া চেয়ে ওই জোরপূর্বক শপথ ভেঙে দিন এবং তৃণমূলকে ভোট দিন। আর যাদের গীতা ছোঁয়ানো হয়েছে, তারা শিবমন্দিরে বা মায়ের কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিন। বলুন যে আপনাকে জোর করে সই করানো হয়েছে বা শপথ করানো হয়েছে।”
মমতা স্পষ্টভাবে জানান, ধর্মের নামে রাজনীতি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার এই অপচেষ্টা বাংলায় সফল হবে না। তিনি ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিক বা মানুষদের উদ্দেশে বাংলায় স্থায়ীভাবে কাজ করার ও নিরাপদ আশ্রয়ের আশ্বাসও প্রদান করেন।
নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আধিক্য এবং বিশাল আয়োজনকে বিদ্রুপ করতেও ছাড়েননি তৃণমূল নেত্রী। তিনি আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, “বিজেপি ভোট জেতার জন্য রাফাল যুদ্ধবিমান ছাড়া আর সবকিছুই বাংলায় নামিয়ে দিয়েছে।”
এখন দেখার বিষয়, ২৩ এপ্রিলের প্রথম দফার ভোটে এই বিস্ফোরক অভিযোগের কোনো প্রভাব পড়ে কি না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণ চলাকালীন যেকোনো ধরণের ধর্মীয় উসকানি বা ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a comment