ভারতের উত্তর প্রদেশের মির্জাপুর জেলার ড্রামান্দগঞ্জ থানা এলাকায় বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়ি পথ দিয়ে নামার সময় একটি দ্রুতগামী ট্রাকের ব্রেক বিকল হয়ে যাওয়ার ফলে এই মর্মান্তিক চেইন কলিশন বা ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, রাত প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে ড্রামান্দগঞ্জ উপত্যকা থেকে লাসোদা এলাকার দিকে নামার সময় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ঢালু রাস্তায় ট্রাকটির ব্রেক কাজ না করায় এটি তীব্র গতিতে সামনে থাকা আরেকটি ট্রাককে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ভয়াবহতা আরও বাড়ে যখন ওই দুই ট্রাকের মাঝখানে একটি ছোট যাত্রীবাহী গাড়ি আটকে পড়ে। ট্রাক দুটির প্রচণ্ড চাপে গাড়িটি কার্যত দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পেছনে থাকা আরও একটি যানবাহন এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং যান্ত্রিক ঘর্ষণে সেটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই মির্জাপুর জেলার পুলিশ সুপার অপর্ণা রাজাত কৌশিক এবং ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় গ্যাস কাটার দিয়ে দুমড়ে যাওয়া গাড়ি কেটে মৃতদেহ ও আহতদের বের করে আনা হয়।
পুলিশ সুপার অপর্ণা রাজাত কৌশিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ওই পাহাড়ি রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ ছিল। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ক্রেনের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলো সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ করছে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
Leave a comment