কুমিল্লা নগরীর অশোকতলায় এক অসহায় ও প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে সারাদিনের ভিক্ষা করা মাত্র ১৬০ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে আহত করার এই অমানবিক ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং লিডারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রশাসক এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে (রবিবার) সন্ধ্যায় নগরীর অশোকতলা এলাকায় ওত পেতে থাকা একটি চিহ্নিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ওই অসহায় ভিক্ষুকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত করে। এরপর তার কাছে থাকা ভিক্ষার নগদ ১৬০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত এক ব্যক্তির ওপর এমন নৃশংস আচরণের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা কুমিল্লাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
ঘটনাটি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নজরে আসলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের ধরতে সক্রিয় ভূমিকা নেন। তাঁর নির্দেশনায় স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আশিকসহ যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধী শনাক্তকরণে নামেন। একপর্যায়ে অশোকতলা জামে মসজিদের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম লিডার ‘টোকাই সামির’কে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে বুধবার (৩ জুন) দুপুরে স্থানীয়রা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত টোকাই সামিরকে আটক করে। বিষয়টি সিটি প্রশাসককে জানানো হলে তিনি দ্রুত সঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি তদারকি করেন।
বিকেলে সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। এর প্রেক্ষিতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ারের নির্দেশে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃত কিশোর গ্যাং লিডারকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু গণমাধ্যমকে বলেন, “কুমিল্লা নগরীতে সন্ত্রাস, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। সাধারণ ও অসহায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই যৌথ ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।” পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় যথাযথ ধারায় মামলা দায়ের করে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Leave a comment