চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারিবারিক কলহের জেরে নিজ মা-বাবাকে কাঁচি দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাঁদের একমাত্র সন্তান রমিরাজ দাশ গুপ্তকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি কাপড় কাটার কাঁচি উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনোয়ারা থানা পুলিশ জোড়া খুনের এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে নিহত ব্যক্তির ভাই তপন দাশ গুপ্ত বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহতরা হলেন উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা গ্রামের দেবেন্দ্র মহাজন বাড়ির বাসিন্দা স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা দাশ গুপ্ত (৫৫)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রমিরাজ মা-বাবার একমাত্র সন্তান হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত অবাধ্য ও উগ্র প্রকৃতির ছিলেন। অবাধ্যতার কারণে তিনি প্রায়ই মা-বাবার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। শনিবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে তর্কের একপর্যায়ে রমিরাজ উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে মায়ের গলায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই কল্পনা দাশ গুপ্তের মৃত্যু হয়। এ সময় স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা স্বপন দাশ গুপ্ত এগিয়ে এলে ঘাতক ছেলে তাঁকেও কাঁচি দিয়ে গলা ও পেটে আঘাত করে মারাত্মক জখম করে।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্বপন দাশ গুপ্তকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত রমিরাজকে গ্রেপ্তার করে এবং মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
আনোয়ারা থানার কর্মকর্তা জানান, সন্তান অবাধ্য হওয়ায় পারিবারিক বিবাদের জেরে এই নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। হত্যায় ব্যবহৃত কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
Leave a comment