বয়স মাত্র দুই মাস। নাম সাবিহা ইসলাম রোজা। কান্না ছাড়া নিজের কোনো কষ্ট প্রকাশের ক্ষমতাও যার তৈরি হয়নি, সেই কান্নার ‘অপরাধেই’ জন্মদাতা বাবার নির্মম হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছে শিশুটি। গুরুতর আঘাত ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে সে।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মিরপুর ১-এর মাজার রোড এলাকা থেকে মুমূর্ষু শিশুটিকে নিয়ে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন মা লাবণী জান্নাত। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন, গলায় কালচে দাগ এবং প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট রয়েছে। হাত কিংবা বালিশ চাপা দিয়ে তার নিশ্বাস বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন। শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত তাকে পিআইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ে হলেও অভিযুক্ত স্বামী হৃদয় খান আগে থেকেই পরকীয়ায় জড়িত এবং কিছুদিন ধরে বেকার ছিলেন। পূর্বেও শিশুটির কান্নাকাটিতে ক্ষুব্ধ হয়ে মারধর করেছিলেন তিনি। শুক্রবার রাতে ঘুমানোর পর শনিবার ভোরে উঠে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন মা লাবণী। ততক্ষণে পাষণ্ড বাবা হৃদয় খান গা ঢাকা দেন।
সন্তানকে বাঁচাতে মাত্র ৭০০ টাকা হাতে নিয়ে হাসপাতালে ছোটাছুটি করা মায়ের পাশে কোনো স্বজন ছিলেন না। এই মানবিক সংকটে এগিয়ে আসেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা নিজেদের পকেট ও ডিপার্টমেন্ট ফান্ড থেকে ১৫ হাজার টাকা জোগাড় করে শিশুটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের ব্যবস্থা করেন।
রবিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান জানান, শিশুটির শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নত হলেও সে এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিশু সাবিহা ইসলাম রোজার যাবতীয় চিকিৎসা ও ঔষধপত্রের সম্পূর্ণ খরচের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত হৃদয় খানকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে।
Leave a comment