‘রুপালি গিটার’, ‘নীল বেদনা’, ‘মাধবী’, ‘সেই তুমি’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’—আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া শ্রোতাপ্রিয় ২০টি গান এবার শোনা যাবে নতুন সংগীতায়োজনে। দেশের ৮টি ব্যান্ড ও ১২ জন শিল্পীর কণ্ঠে নতুন করে তৈরি করা গানগুলো নিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে অ্যালবাম ‘উত্তরাধিকার’।
আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন ১৬ আগস্ট উপলক্ষে রোববার ডাবল সিডি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অ্যালবামটি প্রকাশ করা হবে। এ প্রকল্প থেকে পাওয়া অর্থ ব্যয় করা হবে আইয়ুব বাচ্চু মিউজিয়াম তৈরির কাজে।
‘উত্তরাধিকার’ অ্যালবামে আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া ২০টি গান নতুন সংগীতায়োজনে গেয়েছেন দেশের পরিচিত ব্যান্ড ও একক শিল্পীরা। ব্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে দলছুট, আরবোভাইরাস, সোনার বাংলা সার্কাস, শুভযাত্রা, ক্যালিপসো, রকসল্ট, ডোপামিন ও এ কে রাহুল।
একক শিল্পীদের মধ্যে আছেন বাবনা করিম, রাসেল আলী, রোমেল আলী, চন্দন জামান আলী-মেনন, কানিজ সুবর্ণা, সাজ্জাদ, পলাশ, জয় শাহরিয়ার, অদিত, বখতিয়ার হোসেন, আতিকা ইয়ামিন ও অটামনাল মুন। সব কটি গানের মাস্টারিং করেছেন ইকবাল আসিফ জুয়েল।
অ্যালবামে দলছুট গেয়েছে ‘রুপালি গিটার’, আরবোভাইরাস ‘নীল বেদনা’, সোনার বাংলা সার্কাস ‘গতকাল রাতে’, শুভযাত্রা ‘চলো বদলে যাই’, ক্যালিপসো ‘চাঁদ মামা’, রকসল্ট ‘অচেনা জীবন’, ডোপামিন ‘মাধবী’ এবং এ কে রাহুল ‘মন চাইলে মন’।
একক শিল্পীদের মধ্যে বাবনা করিম ও রাসেল আলী গেয়েছেন ‘হাসতে দেখো’, রোমেল আলী ‘এখন অনেক রাত’, চন্দন জামান আলী-মেনন ‘মেয়ে’, কানিজ সুবর্ণা ও সাজ্জাদ ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, পলাশ ‘আপন কেহ নাই’, জয় শাহরিয়ার ‘কষ্ট কাকে বলে’, অদিত ‘ঘুমন্ত শহরে’, বখতিয়ার হোসেন ‘রাতের তারা’, আতিকা ইয়ামিন ‘ফেরারি এই মন’, অটামনাল মুন ‘হকার’, কনক আচার্য ‘নীরবে’ এবং তওফিক-এবি-মেনন ‘বাংলাদেশ’ গেয়েছেন।
আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় ‘চলো বদলে যাই’ গানটি নতুন করে গেয়েছে শুভযাত্রা। ব্যান্ডটির ভোকাল শুভ বলেন, বাচ্চু ভাইয়ের গান আনুষ্ঠানিকভাবে কাভার করার প্রস্তাব পাওয়ার পর কিছুটা ভয় লাগছিল। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে উৎসাহ পাওয়ার পর তাঁরা কাজ শুরু করেন। টানা পাঁচ দিনে গানটির নতুন সংগীতায়োজন সম্পন্ন করেন তাঁরা।
মিউজিয়াম তৈরির স্বপ্ন
আইয়ুব বাচ্চুর গিটারপ্রেম তাঁর ভক্তদের কাছে সুপরিচিত। অস্ট্রিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র—বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামী ব্র্যান্ডের গিটার সংগ্রহ করতেন তিনি। তাঁর ব্যবহৃত ফেন্ডার স্ট্রাটোকাস্টার, আইভানেজের জেম সেভেনটি সেভেনসহ প্রায় ৫০টি গিটার নিয়ে আইয়ুব বাচ্চু মিউজিয়াম তৈরির পরিকল্পনা করেছে তাঁর পরিবার ও আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন।
বর্তমানে ঢাকার মগবাজারের বাসায় সংরক্ষিত আছে গিটারগুলো। আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আক্তার এসব স্মারক যত্নে সংরক্ষণ করছেন। প্রায় তিন বছর আগে পরিবারের উদ্যোগে আইয়ুব বাচ্চুর কয়েকটি গিটার নিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছিল।
প্রায় আট বছর ধরে আইয়ুব বাচ্চুর গিটার, এবি কিচেনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, ব্যবহৃত ক্যাপ, টি-শার্টসহ নানা স্মারক নিয়ে একটি মিউজিয়াম তৈরির স্বপ্ন দেখছে পরিবার।
ফেরদৌস আক্তার বলেন, গিটারগুলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে সেগুলো ভালো থাকে। আইয়ুব বাচ্চুর গিটার তাঁর অস্তিত্বেরই একটি অংশ। মিউজিয়াম বা মিউজিক্যাল লাউঞ্জ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো এভাবেই যত্নে রাখা হবে।
স্বপ্ন পূরণের পথে
২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর ৫৬ বছর বয়সে মারা যান আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর মৃত্যুর পরও গান, গিটারবাদন ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে শ্রোতাদের কাছে তিনি প্রাসঙ্গিক। মৃত্যুর আগে নিজের কিছু স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন এই শিল্পী। তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করছে আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন।
২০২০ সালে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয় ২০২৫ সালের ৯ জুলাই। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আক্তার জানান, আইয়ুব বাচ্চুর স্বপ্ন পূরণ করতে তাঁরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এর জন্য পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।
সেই স্বপ্ন পূরণের পথেই নেওয়া হয়েছে ‘উত্তরাধিকার’ প্রকল্প। প্রকল্পটির সমন্বয়ক চিশতি ইকবাল জানান, আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনে বিশেষ কিছু করার ইচ্ছা থেকেই তাঁর গানগুলো নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়। পরে ২০টি গান নিয়ে তৈরি হয় ‘উত্তরাধিকার’।
রোববার বেলা তিনটায় ‘উত্তরাধিকার’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন হবে। এতে প্রকল্পটির বিস্তারিত তুলে ধরবেন ফেরদৌস আক্তার। একই দিন ডাবল সিডি অ্যালবামটি প্রকাশের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও গানগুলো মুক্তি পাবে।
Leave a comment