গাজীপুর মহানগরের ব্যস্ততম জয়দেবপুর বাজার ও রাজবাড়ী রোডের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছে সিটি করপোরেশন। অভিযানে শতাধিক অবৈধ দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই হকাররা আবার ফুটপাতে বসতে শুরু করেন। এর আগে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও পরে একইভাবে ফুটপাত দখল হয়ে যায়।
ফলে বারবার অভিযান চালানোর পরও ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখতে না পারা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারের নেতৃত্বে জয়দেবপুর বাজার ও রাজবাড়ী রোড এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় শতাধিক অবৈধ দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা করে মোট দুই হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।
অভিযানের সময় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, রাজবাড়ী রোডের ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। সেখানে কোনো দোকানপাট বসানো বা গাড়ি পার্কিং করতে দেওয়া হবে না। জনগণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা এবং গাজীপুর শহরকে যানজটমুক্ত ও সুশৃঙ্খল রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের উচ্ছেদ করা এলাকা নিয়মিত তদারক করে দখলমুক্ত রাখার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অমান্য করলে পর্যায়ক্রমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, উচ্ছেদ করা জায়গা যাতে আবার দখল না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযান শেষ হওয়ার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই হকাররা আবার ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেন। আগের বিভিন্ন অভিযানের পরও একইভাবে হকাররা ফিরে আসায় ফুটপাত দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে ব্যস্ত সড়কে যানজট বাড়ে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
উচ্ছেদ অভিযানের সময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ফিরোজ আল মামুন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, ৪ নম্বর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুনসহ করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a comment