মো. আসাদুজ্জামান, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় বাড়ছে বাণিজ্যিকভাবে কলার আবাদ। ধান, ভুট্টাসহ প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি লাভের আশায় অনেক কৃষক কলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কম সময়ে ফলন পাওয়া এবং সারা বছর বাজারে চাহিদা থাকায় কলা চাষকে সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পীরগঞ্জে প্রায় ১২০ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষিজমিতে সারি সারি কলাগাছ দেখা গেছে। কেউ পতিত জমিতে, কেউ বসতবাড়ির আশপাশে, আবার কেউ অন্য ফসলের পাশাপাশি কলার আবাদ করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলা চাষে তুলনামূলক কম সময়ে ফলন পাওয়া যায়। বাজারে সারা বছর চাহিদা থাকায় উৎপাদিত কলা বিক্রিতেও তেমন সমস্যা হয় না। তবে ভালো ফলনের জন্য নিয়মিত পরিচর্যা, সময়মতো সার ও পানি প্রয়োগ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
একজন স্থানীয় কলাচাষি বলেন, ‘ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় কলায় নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। তবে বাজারে চাহিদা থাকায় ভালো দাম পাওয়া গেলে লাভও ভালো হয়। এ কারণে প্রতিবছর কলা চাষের জমি বাড়ানোর চিন্তা করছি।’
আরেক কৃষক বলেন, ‘কলা চাষে রোগবালাই দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়। সঠিক সময়ে সার, পানি ও বালাই ব্যবস্থাপনা করা গেলে উৎপাদন ভালো হয়। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে চাষিরা আরও লাভবান হতে পারবেন।’
বাজারজাতকরণেও গুরুত্ব
কৃষকদের মতে, কলা উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারজাতকরণও গুরুত্বপূর্ণ। পীরগঞ্জের স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আশপাশের উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন বাজারে উৎপাদিত কলা সরবরাহ করা হয়। পরিবহনব্যবস্থা ভালো থাকলে দ্রুত কলা বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হয়। এতে কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।
স্থানীয় এক কলা ব্যবসায়ী বলেন, ‘পীরগঞ্জে উৎপাদিত কলার চাহিদা রয়েছে। মৌসুম ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে দাম ওঠানামা করে। কৃষকেরা দলবদ্ধভাবে কলা বাজারজাত করতে পারলে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে।’
আধুনিক প্রযুক্তিতে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ
উপজেলা কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, কলা একটি অর্থকরী ফসল। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, উন্নত জাতের চারা নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাইয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফলন ও গুণগত মান বাড়ানো সম্ভব। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পীরগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া অনেকাংশে কলা চাষের উপযোগী। তবে অপরিকল্পিতভাবে আবাদ সম্প্রসারণ না করে জমির গুণাগুণ, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ও বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, প্রশিক্ষণ, মানসম্মত চারা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা এবং উৎপাদিত কলার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ উপজেলায় কলার আবাদ আরও বাড়তে পারে। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
Leave a comment