এক গভীর ও আত্মিক সম্পর্কের টানে ইরানের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন কাশ্মীরের বাসিন্দারা। গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের উৎসবের দিনে যখন বিশ্বজুড়ে আনন্দ উদযাপিত হচ্ছিল, তখন ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বহু মানুষ নিজেদের স্বর্ণালঙ্কার, জমানো অর্থ এবং ঘরের আসবাবপত্র দান করেছেন ইরানের ত্রাণ তহবিলে।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীনগর থেকে শুরু করে বুদগামের দূরবর্তী এলাকা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ এই উদ্যোগে শামিল হয়েছেন। বুদগামের বাসিন্দা ‘মাসরাত মুখতার’ নিজের জন্মদিনে বাবার দেওয়া সোনার দুল দান করেছেন। জাদিবাল এলাকার বাসিন্দা তাহেরা জান জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে মেয়েদের বিয়ের জন্য জমিয়ে রাখা মূল্যবান তামার বাসনপত্র তারা দান করে দিয়েছেন যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য। এমনকি কোমলমতি শিশুরা তাদের বহুদিনের জমানো মাটির ব্যাংক বা ‘পিগি ব্যাংক’ ভেঙে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
কাশ্মীরের এই সহমর্মিতার মূলে রয়েছে ছয় শতাব্দীর প্রাচীন পারস্য প্রভাব। সুফি সাধক মীর সৈয়দ আলী হামাদানির হাত ধরে কাশ্মীরে পারস্য সংস্কৃতি ও সুফিবাদের যে ছোঁয়া লেগেছিল, তার ফলে কাশ্মীরকে ‘ইরান-ই-সগীর’ বা ‘ছোট ইরান’ বলা হয়। যদিও কাশ্মীরের জনসংখ্যার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিয়া মুসলিম, তবে এই মানবিক উদ্যোগে শিয়া-সুন্নি নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিয়েছেন। অনেক পরিবার ঈদের কেনাকাটার খরচ কমিয়ে সেই অর্থ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, কাশ্মীর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কোটি রুপি (প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলার) সমপরিমাণ সহায়তা সংগৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে নগদ অর্থ, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, সাইকেল এবং যানবাহন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই বিশাল অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তাদের আশঙ্কা, যথাযথ নজরদারি না থাকলে এই অর্থ বিচ্ছিন্নতাবাদী বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে পড়তে পারে। এ কারণে স্বচ্ছতার সঙ্গে তহবিল ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছে প্রশাসন।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ মানবিক উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। সংগৃহীত প্রতিটি সম্পদ সরাসরি ইরানের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও সাংস্কৃতিক ও মানবিক বন্ধন আজও অমলিন।
Leave a comment