Home আন্তর্জাতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মত ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হলেন একজন মুসলিম
আন্তর্জাতিকজাতীয়

ইতিহাসে প্রথমবারের মত ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হলেন একজন মুসলিম

Share
Share

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক অভাবনীয় চমক নিয়ে হাজির হয়েছে ভারত সরকার। বাংলাদেশের নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হতে যাচ্ছেন প্রখ্যাত রাজনীতিক এবং ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের সাবেক গভর্নর আরিফ মোহাম্মদ খান। কূটনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা, কারণ সাধারণত পেশাদার কূটনীতিকদের (IFS) এই পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও এবার একজন শীর্ষ পর্যায়ের ‘পলিটিক্যাল হেভিওয়েট’ ব্যক্তিত্বকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

আরিফ মোহাম্মদ খান কেবল একজন রাজনীতিক নন, বরং আধুনিক ভারতের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ও প্রগতিশীল চিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিত। ১৯৮০-র দশকে রাজীব গান্ধী সরকারের মন্ত্রিসভায় কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক উত্থান ছিল উল্কার মতো। তবে ১৯৮৬ সালে ঐতিহাসিক ‘শাহ বানু’ মামলার রায় নিয়ে সরকারের রক্ষণশীল অবস্থানের প্রতিবাদে মন্ত্রিসভা ও কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। মুসলিম রক্ষণশীলদের উত্থান ও তোষণ নীতির বিরুদ্ধে তার আপসহীন অবস্থান তাকে ভারতীয় রাজনীতিতে এক বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আরিফ মোহাম্মদ খানের মতো একজন অভিজ্ঞ নেতাকে বাংলাদেশে পাঠানোর পেছনে ভারতের বিশেষ কৌশলগত লক্ষ্য থাকতে পারে। প্রায় ৪০ বছর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হওয়া এই ব্যক্তিত্বকে সম্ভবত কেন্দ্রীয় পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদা (Cabinet Rank) দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হবে। এর আগে এত বড় প্রোফাইলের কোনো রাজনীতিককে ভারত সরকার রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার হিসেবে অন্য কোনো দেশে পাঠিয়েছে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক গবেষণা চলছে।

আরিফ খানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি একাধিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী জীবনে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন এবং সর্বশেষ বিহারের রাজ্যপাল (গভর্নর) হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়েও তার নাম ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছিল।

কেন আরিফ খানকে বেছে নেওয়া হলো? এই প্রশ্নের উত্তরে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে একজন ঝানু রাজনীতিকের উপস্থিতি নয়াদিল্লির জন্য অত্যন্ত জরুরি। আরিফ মোহাম্মদ খান তার প্রজ্ঞা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং কূটনৈতিক সূক্ষ্মতা দিয়ে দুই দেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধানে এবং সম্পর্কের নতুন মাত্রা তৈরিতে সক্ষম হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

‘নতুন’ কৌশলে এগোচ্ছেন ট্রাম্প, ইরানের বিরুদ্ধে এটি কতটা কার্যকর?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংঘাত ছয় মাস পেরিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে। প্রায় এক মাসের বিরতির পর চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে ফের সরাসরি...

কুয়েটে ছাত্রদলের স্লোগান, রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের পক্ষে কঠোর হুইপ বকুল

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২৩তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের আগমনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল সমর্থিত একদল...

Related Articles

পে-স্কেল: ৫৩ বছরে ১৩০ থেকে পৌঁছেছে ১ লাখ ৫৬ হাজার

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম জাতীয় বেতন স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন...

সরকারি বাসা বরাদ্দে নতুন সিদ্ধান্ত, এ-বি-সি শ্রেণির বাসা সরাসরি দেবে না আবাসন পরিদপ্তর

সরকারি বাসা বা বাড়ি বরাদ্দের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে...

দুদকের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য না বদলালে মানহানির মামলা: আসিফ মাহমুদ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন...

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কারিগরি-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে কারিগরি ও...