Home আন্তর্জাতিক বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ৩ বছর পেছাতে জাতিসংঘ মহাসচিবের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিকজাতীয়

বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ৩ বছর পেছাতে জাতিসংঘ মহাসচিবের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

Share
Share

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণ বা গ্র্যাজুয়েশন আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৬ এপ্রিল) পাঠানো এক বিশেষ চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী এই আবেদন জানান। চিঠিতে বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ, জ্বালানি সংকট এবং গত পাঁচ বছরে উত্তরণ-পূর্ব প্রস্তুতির ঘাটতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ দীর্ঘদিনের জাতীয় আকাঙ্ক্ষা হলেও বর্তমানের বিপর্যস্ত সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ, দুর্বল পুঁজিবাজার এবং ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্যের কারণে এই প্রক্রিয়াটি মসৃণভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এই বহু আকাঙ্ক্ষিত উত্তরণকে প্রতিহত করা নয়; বরং এটি যেন প্রকৃত অর্থেই টেকসই এবং স্থিতিস্থাপক হয়, তা নিশ্চিত করা।”

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘ মহাসচিব ইতিপূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ চিঠিটি গ্রহণ করেছেন। চিঠিতে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট পণ্যমূল্যের অস্থিরতা বাংলাদেশের রাজস্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে সংকুচিত করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট ও বেসরকারি খাতের সীমিত অর্থায়ন জনগণের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রগতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

উল্লেখ্য, মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকে উত্তীর্ণ হয়ে ২০২১ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছিল এবং চলতি বছরের নভেম্বর মাসে চূড়ান্ত উত্তরণের সময় নির্ধারিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক সংকটের কারণে বর্তমান সরকার এই সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইআরডি ইতিপূর্বেই জাতিসংঘের ‘কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি’র (সিডিপি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন যে, জনসংখ্যা ও জিডিপির দিক থেকে বাংলাদেশ বৃহত্তম স্বল্পোন্নত দেশ। এমতাবস্থায় শুল্কমুক্ত সুবিধা বা মেধাস্বত্বের নমনীয়তা দ্রুত প্রত্যাহার করা হলে তা দেশের রপ্তানি খাত ও সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতেই প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের ব্যক্তিগত সমর্থন ও সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

‘নতুন’ কৌশলে এগোচ্ছেন ট্রাম্প, ইরানের বিরুদ্ধে এটি কতটা কার্যকর?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংঘাত ছয় মাস পেরিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে। প্রায় এক মাসের বিরতির পর চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে ফের সরাসরি...

কুয়েটে ছাত্রদলের স্লোগান, রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের পক্ষে কঠোর হুইপ বকুল

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২৩তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের আগমনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল সমর্থিত একদল...

Related Articles

পে-স্কেল: ৫৩ বছরে ১৩০ থেকে পৌঁছেছে ১ লাখ ৫৬ হাজার

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম জাতীয় বেতন স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন...

সরকারি বাসা বরাদ্দে নতুন সিদ্ধান্ত, এ-বি-সি শ্রেণির বাসা সরাসরি দেবে না আবাসন পরিদপ্তর

সরকারি বাসা বা বাড়ি বরাদ্দের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে...

দুদকের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য না বদলালে মানহানির মামলা: আসিফ মাহমুদ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন...

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কারিগরি-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে কারিগরি ও...