আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার ৭৯তম জন্মদিন। জন্মদিনকে ঘিরে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় দলটির নেতা-কর্মীদের একাংশ শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি শুধু ডিসেম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সেপ্টেম্বর বা নভেম্বরেও তিনি ফিরতে পারেন। তাঁর ভাষ্য, এ নিয়ে প্রস্তুতি চলছে এবং প্রত্যাবর্তনের ঘটনা ঘটবে।
তবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা থাকলেও বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
এদিকে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও দলটির ভেতরে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রের দাবি। দলের পলাতক ও প্রবাসী নেতাদের পাশাপাশি দেশে অবস্থানরত এবং কারাগারে থাকা নেতাদের একটি অংশ ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিতে পারেন—এমন আলোচনা রয়েছে।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সম্প্রতি স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে তিনি ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন। পরে তাঁকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করে দীপু মনি বলেছেন, ‘বাসায় ফেরার তাড়া নেই, সেই সময় ফুরিয়ে গেছে।’ তাঁর এই বক্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্ব ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা রয়েছে। বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাঁকে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক অবস্থান ও বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমালোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে তাঁর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং বিএনপি সরকারের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ—এই তিন বিষয়কে ঘিরে আগামী কয়েক মাস দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। তবে এসব সম্ভাবনা এখনো রাজনৈতিক আলোচনা ও বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
Leave a comment