সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান নিয়ে নিজেদের বক্তব্য সংশোধন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার সকালে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর খবর প্রকাশিত হয়। পরে বিকেলে দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ বা ‘প্রাথমিক প্রমাণ’ পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
তবে এসব সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের একটি গ্রুপে বার্তা পাঠিয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ করেন দুদকের মুখপাত্র। কোনো ভিডিওতে ওই বক্তব্য থাকলে তা সম্পাদনা করে বাদ দেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।
সাংবাদিকদের পাঠানো বার্তায় আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘পদোন্নতি, বদলি বাণিজ্য, পদায়নসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা জনাব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।’
তিনি আরও বলেন, ‘কথা বলতে গিয়ে সম্ভবত প্রাথমিক সত্যতা শব্দ বলে ফেলেছি। প্রাথমিক সত্যতা শব্দটি না ব্যবহার করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ভিডিওতে থাকলে সেটিও এডিট করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।’
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি ও সরকারি কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। অন্য তিনজন হলেন তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন ও উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের চার সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কয়েকটি গণমাধ্যমে দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বরাত দিয়ে ১৮৮ জন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের ‘প্রাথমিক প্রমাণ’ পাওয়ার কথা বলা হয়। কোনো কোনো প্রতিবেদনে এই লেনদেনের পরিমাণ প্রায় চার কোটি টাকা বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে দুদকের মুখপাত্র পরবর্তী বার্তায় ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ করায় এ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি এক পোস্টে লেখেন, ‘দুদক বলছে প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রমাণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করুন প্লিজ।’
তিনি আরও লেখেন, ‘দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম আজ সংবাদ সম্মেলন করে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানালেন। প্রতিটি মিডিয়ায় নিউজ হলো, অনুসন্ধান শুরুর আগেই নাকি উনারা প্রমাণ পেয়ে গেছেন। প্রমাণ ও সত্যতা পাওয়ার নিউজে আসিফ মাহমুদের মানহানি করা হলো।’
পরে বক্তব্য পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে দুদকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নও তোলেন আসিফ মাহমুদ।
দুদকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো ব্যাখ্যা বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
Leave a comment