ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার জন্য ঢাকা-১০ আসন ছেড়ে দিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করেছিলেন বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন সাবেক গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খান। বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে তিনি এই রাজনৈতিক দরকষাকষির তথ্য প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, আসিফ মাহমুদের আসনটি ছেড়ে দিতে গণসংগ্রামের অন্য অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামও বেশ কয়েকবার জামায়াত আমিরের কাছে অনুরোধ জানান। তবে জামায়াত আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ ও বিতর্কের দায় কোনোভাবেই জামায়াতে ইসলামী নেবে না। এমনকি ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজে কল করা সত্ত্বেও জামায়াত প্রধান তা প্রত্যাখান করে প্রয়োজনে অন্য দুই-তিনটি আসন বেশি ছাড়ার প্রস্তাব দেন, তবুও আসিফের ব্যাপারে যেন কোনো সুপারিশ না করা হয় তা সাফ জানিয়ে দেন। আসিফ মাহমুদের আসনে ছাড় না দেওয়ার এই দৃঢ় অবস্থানের জন্য পোস্টে জামায়াতকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
এছাড়া পোস্টে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে রাশেদ খান দাবি করেন, এনসিপিতে (জাতীয় নাগরিক পার্টি) আসিফ মাহমুদের দুর্নীতি একটি ‘ওপেন সিক্রেট’ বিষয়। মাত্র ১৮ মাসের উপদেষ্টা থাকাকালে তিনি বিপুল ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের সাথে জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ। দুদকের নীতিগত ও কৌশলগত ত্রুটির সুযোগে পার পেয়ে গেলেও আসিফ মাহমুদ বড় অঙ্কের অর্থ অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন যা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলেও জানা ছিল বলে দাবি করা হয়।
শেষে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, অল্প বয়সের ভুল স্বীকার করে আসিফ মাহমুদের উচিত ছিল দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া। কিন্তু বিরোধিতার খাতিরে রাজনৈতিক অঙ্গনের কেউ কেউ তাঁর পাশে দাঁড়ালেও, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিষয়ে তিনি সব সময় সত্য উচ্চারণ করে যাবেন বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
Leave a comment