শিয়ালের হুক্কাহুয়া ডাক কিংবা শিয়ালপণ্ডিত নামে কাউকে ব্যঙ্গ করা—ছোটবেলায় এমন উপমা বা গল্প শোনেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। বাংলাদেশে পরিচিত এই প্রাণীকে ঘিরে রয়েছে নানা ছড়া, গান, লোকবিশ্বাস, কুসংস্কার ও লোকগল্প।
কখনো ধূর্ত চরিত্রে, কখনো অমঙ্গলের প্রতীক হিসেবে, আবার কখনো গৃহপালিত পশুপাখি খেয়ে ফেলার অভিযোগে—বিভিন্নভাবে মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে শিয়াল।
তবে পরিবেশবিদেরা বলছেন, একসময় খুব পরিচিত এই প্রাণীটিকে এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। দিন দিন কমে আসছে এর বিচরণ ও আবাসস্থল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সুপরিচিত খেঁকশিয়াল, যাকে ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল ফক্স’ বলা হয়, বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো, ক্রমেই কমে আসছে খেঁকশিয়ালের প্রাকৃতিক আবাসস্থল।
প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সংকটাপন্ন শ্রেণিতে থাকা খেঁকশিয়াল সংস্থাটির চলমান নতুন মূল্যায়নে আরও উচ্চতর ঝুঁকির বা ‘বিপন্ন’ শ্রেণিতে চলে যেতে পারে।
অথচ প্রকৃতিতে খেঁকশিয়ালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৃত প্রাণী খেয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, ইঁদুরসহ বিভিন্ন ছোট প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই বন্যপ্রাণী।
তাই খেঁকশিয়ালের আবাসস্থল সংরক্ষণ ও নির্বিঘ্ন বিচরণ নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশের প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে পারে এই পরিচিত প্রাণীটি।
Leave a comment