নাজমুল হাসান, মাদারীপুর
মাদারীপুর সদর উপজেলায় ঘরে ঢুকে আইভী আক্তার (১৮) নামের এক তরুণীকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত আইভী শরীয়তপুরের কাতার প্রবাসী মো. ফেরদৌসের স্ত্রী এবং মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর এলাকার আসলাম শরীফের মেয়ে। হত্যার পর নিহতের ব্যবহৃত একটি আইফোন নিয়ে পালিয়ে গেছে ঘাতকেরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কালিকাপুর এলাকায় নিহতের চাচার বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অসচ্ছলতার কারণে ছোটবেলা থেকেই আইভী তাঁর চাচা কালাম শরীফের বাড়িতে লালিত-পালিত হন। এক বছর আগে শরীয়তপুরের বাসিন্দা ফেরদৌসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরই স্বামী জীবিকার তাগিদে কাতারে পাড়ি জমান। স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে আইভী সম্প্রতি চাচার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় চাচা কালাম শরীফ মসজিদে নামাজ পড়তে যান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা চিকিৎসার কাজে মাদারীপুর শহরে ছিলেন। সেই সুযোগে খাঁ খাঁ ফাঁকা বাড়িতে দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে। নামাজ শেষে ঘরে ফিরে চাচা আইভীকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসে এবং পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে যে, আইভীর ব্যবহৃত দামি আইফোনটি চুরি করাই ছিল দুষ্কৃতীদের মূল উদ্দেশ্য। চুরি করতে দেখে ফেলা বা চিনে ফেলার কারণেই তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
নিহতের চাচা কালাম শরীফ এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি চুরি নাকি পারিবারিক কোনো বিরোধের জেরে ঘটেছে-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে
Leave a comment