চট্টগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না (৩৮) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত।
এর আগে স্থানীয় লোকজন ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নারীকে আটক করেন। পরে আকবরশাহ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী মো. জহির শাহের ভাইয়ের করা মামলায় নুরুন্নবী মুন্না ও ওই নারীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নগরের আকবরশাহ থানার বিশ্ব কলোনি আই-ব্লকের ৮০ নম্বর প্লটের দ্বিতীয় তলায় জহির শাহের মালিকানাধীন একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরুন্নবী মুন্না ও কাজী পারভীন আক্তারকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পারভীন রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগর এলাকার বাসিন্দা এবং সৌদি আরবপ্রবাসী জহির শাহের স্ত্রী।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জহির শাহ ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সৌদি আরবে যান। এরপর তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের দেখাশোনা করতেন তাঁর ছোট ভাই নাদিম। নুরুন্নবী মুন্না আকবরশাহ থানায় কর্মরত থাকার সময় ২০২১ সালের ২০ জুন পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে জহিরের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। পরে পারভীনের সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নুরুন্নবী ওই ফ্ল্যাটে যান এবং সেখানে পারভীনের সঙ্গে অবস্থান করেন। এ ছাড়া তাঁরা পরস্পর যোগসাজশে জহিরের বিদেশ থেকে পাঠানো ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৫ লাখ টাকা সরিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে পুলিশ নুরুন্নবী ও পারভীনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আকবরশাহ থানায় দণ্ডবিধির ৪৯৪, ৪৯৭, ৩২৩, ৩৮০, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
আকবরশাহ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, স্থানীয় লোকজন এএসআই নুরুন্নবী মুন্নাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। নুরুন্নবী ও পারভীনের মধ্যে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল।
ওসি আরও বলেন, প্রবাসী জহিরের ভাই বাদী হয়ে ব্যভিচার, মারধর, চুরি ও হুমকির অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
Leave a comment