Share
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আনীত ‘ভোট চুরির’ সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সপক্ষে খুব শীঘ্রই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে সমস্ত অকাট্য তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কথা বলেন।
এর আগে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-র একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। বৈঠক শেষে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী জানান, রাষ্ট্রপতি তাদের অভিযোগগুলো মন দিয়ে শুনেছেন এবং তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও বিস্তারিত প্রমাণাদি চাওয়া হয়েছে বলে জানান নেতারা। ভোটার তালিকা সংশোধনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান প্রতিবাদের মাঝেই মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘ইন্ডিয়া’ জোট সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ যেহতু তাদের হাতে রয়েছে, তাই খুব শীঘ্রই তা মহামান্য রাষ্ট্রপতির সামনে পেশ করা হবে।
এদিকে দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও পুলিশি আচরণের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, যন্তর মন্তরে নির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় তারা বাসভবনের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেন। কিন্তু পুলিশ তাকে ও তার দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের জোরপূর্বক প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। সিজেপির নেতা অভিজিৎ দীপকের আমন্ত্রণে যন্তর মন্তরে সংহতি জানাতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পুলিশ তাদের পদে পদে বাধা দেয় বলে জানান তিনি।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে মমতা বলেন, “আমরা যখন দেখলাম আমাদের এগোতে দেওয়া হচ্ছে না, তখন বাস স্টপে তিন জনের দল করে দূরত্ব রেখে বসি। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের সঙ্গে দাগি অপরাধীদের মতো আচরণ করে প্রিজন ভ্যানে তোলে। দীর্ঘ জীবনে এমন ন্যাক্কারজনক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আমি কখনো হইনি।” পরবর্তীতে তাদের ভ্যানে করে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন থানায় ঘুরিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ওপর এমন নগ্ন হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের হাঁটার বা প্রতিবাদের অধিকারটুকু কেড়ে নেওয়া হলে এই গণতন্ত্র আদতে কার জন্য?
অন্যদিকে, মমতার এই দিল্লি সফর ও বিরোধীদের সরকারবিরোধী আন্দোলনে সংহতি জানানোকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি ও সংসদ সদস্য শমিক ভট্টাচার্য। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, নিজেকে বাঘিনী দাবি করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জোট বাঁধলেও তাতে কোনো লাভ হবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আগামী দুই দশকে কেন্দ্রে বা পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
Leave a comment