সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন অংশ থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং রিয়াদগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল বা অন্য বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনা সম্পর্কে অবহিত আরও দুই ব্যক্তির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। তাঁদের একজন জানান, বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের ভেতরে কয়েকজনকে আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি। এ সময় এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্স বিমানবন্দরের দিকে ছুটে যেতে দেখা যায়।
সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস ও দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদারের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। চলতি সপ্তাহে এর আগে আরও দুবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় চারজন নিহত, কয়েকজন আহত এবং একটি উড়োজাহাজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে শনিবারের বিস্ফোরণের দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি।
বিমান চলাচলের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলো অন্য বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে অথবা বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার এবং বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ফ্লাইটের তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিমানবন্দর বন্ধ থাকার কারণে কুয়েত এয়ারওয়েজ সৌদি আরবের রাজধানীতে যাওয়া ও সেখান থেকে আসার ফ্লাইট বাতিল করেছে। এ ছাড়া ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ও কাতার এয়ারওয়েজও রিয়াদের সঙ্গে চলাচলকারী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। কিছু বাতিলের সিদ্ধান্ত সোমবার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এদিকে, রিয়াদে নির্ধারিত কয়েকটি বড় জ্বালানি ও বিনিয়োগবিষয়ক সম্মেলনের আয়োজকেরা জানিয়েছেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিয়েও তাঁদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন আয়োজকেরা।
সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের সরকার চলতি মাসের শুরুতে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর গোষ্ঠীটি সৌদি আকাশসীমাকে সামরিক অভিযানের এলাকা ঘোষণা করে। একই সঙ্গে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
Leave a comment