আজ ৫ অক্টোবর। এই দিনে জন্মেছেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রিকেটের দুই পরিচিত মুখ—মাশরাফি বিন মুর্তজা ও ইমরান খান। একই দিনে জন্ম নেওয়া এই দুই সাবেক অধিনায়কের ক্যারিয়ারে বেশ কিছু মিল রয়েছে। দুজনই নিজ নিজ দেশের জনপ্রিয় অধিনায়ক ছিলেন। অধিনায়ক হিসেবে দুজনই বিশ্বকাপে দেশকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দিয়েছেন। আবার চোটের সঙ্গে লড়াই করেই দীর্ঘ সময় ক্রিকেট খেলেছেন তাঁরা। ক্রিকেটের পর দুজনই যুক্ত হয়েছেন রাজনীতিতে।
১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর নড়াইলে জন্ম মাশরাফি বিন মুর্তজার। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার পর পেস বোলিংয়ে দ্রুতই নিজের প্রতিভার জানান দেন। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাংলাদেশ দলের হয়ে তিন সংস্করণেই খেলেছেন এই ডানহাতি পেসার।
মাশরাফির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময় ছিল ওয়ানডেতে। খেলোয়াড় হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবেও বাংলাদেশকে বেশ কিছু স্মরণীয় সাফল্য এনে দেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ।
২০১৫ সালে দেশের মাটিতে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সময়ও মাশরাফি ছিলেন দলের অধিনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দলীয় পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন আসে। চোটের কারণে ক্যারিয়ারে একাধিকবার মাঠের বাইরে যেতে হলেও প্রতিবারই ফিরে এসেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন মাশরাফি।
ক্রিকেট ছাড়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন মাশরাফি। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে একই আসন থেকে আবারও সংসদ সদস্য হন। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি জনসমক্ষে খুব একটা সক্রিয় নন।
অন্যদিকে, ১৯৫২ সালের ৫ অক্টোবর পাকিস্তানের লাহোরে জন্ম ইমরান খানের। পাকিস্তানের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে পরিচিত তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে।
দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইমরান খান ৮৮টি টেস্ট ও ১৭৫টি ওয়ানডে খেলেছেন। টেস্টে ৩৬২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ৩ হাজার ৮০৭ রান করেছেন তিনি। ওয়ানডেতে তাঁর উইকেটসংখ্যা ১৮২ এবং রান ৩ হাজার ৭০৯।
ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন ইমরান খান। ১৯৯৬ সালে তিনি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান। পরে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দী হন ইমরান খান।
ক্রিকেট মাঠে নেতৃত্ব ও সাফল্যের কারণে দুই দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন মাশরাফি ও ইমরান। তাঁদের জন্মদিন একই দিনে হওয়ায় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে দিনটি তাই আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
Leave a comment