কুয়েত সিটির ক্যাপিটাল গভর্নরেটে একটি বহুতল আবাসিক কমপ্লেক্সে ড্রোন হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে ইরানের দিক থেকে ধেয়ে আসা একটি শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন সরাসরি ওই আবাসিক ভবনটিতে আঘাত হানলে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়েনি এবং ঘটনাটিতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
কুয়েতের সরকারি বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আল-ঘারিব জানান, ভোরে ড্রোনটি আবাসিক কমপ্লেক্সে আছড়ে পড়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ড সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং ভবনের বাসিন্দাদের সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। ড্রোনটির হামলায় ওই কমপ্লেক্সের কিছুটা অবকাঠামোগত ক্ষতি হলেও কোনো নাগরিক আহত বা নিহত হননি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংঘাতের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও তার আশেপাশের অঞ্চলে সিরিজ হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। তবে ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় ড্রোন আঘাত হানার এ ঘটনা অঞ্চলজুড়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। কুয়েতি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে এবং শত্রুপক্ষের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ হতে পারে বলে দেশবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে।
কুয়েত সরকার আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির মাঝে বেসামরিক স্থাপনার ওপর হামলাকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হিসেবে দেখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ক্রমবর্ধমান সরাসরি আকাশ হামলার প্রতিক্রিয়া কীভাবে এই অঞ্চলের ছোট সার্বভৌম দেশগুলোর ওপর আঘাত হানছে, এই ঘটনা তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। কুয়েতি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
Leave a comment