কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর কৌশলগত কেন্দ্র ‘আলি আল-সালেম’ বিমানঘাঁটিতে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে কয়েকজন মার্কিন সেনাকে হত্যার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন কমান্ডারের সদর দপ্তর, আবাসন কেন্দ্র এবং ড্রোন সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে এই সমন্বিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আইআরজিসির প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, কুয়েতের ওই বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় একটি ড্রোন হ্যাঙ্গার ও রানওয়েতে অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং হামলায় মার্কিন বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকের এরবিলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতেও পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানি ভূখণ্ডের সিরিক কাউন্টিতে মার্কিন হামলার ফলে সাধারণ নাগরিক হতাহতের জবাবেই তারা এই সমন্বিত প্রতিশোধমূলক সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে এই হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের বিষয়টি মার্কিন সামরিক বাহিনী (সেন্টকম) বা কুয়েত সরকার সরাসরি নিশ্চিত করেনি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার হামলা-পাল্টা হামলার নতুন ধাপে জর্ডান ও বাহরাইন তাদের নিজ নিজ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধেয়ে আসা ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত অপারেশনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে ঘাঁটিটিতে মার্কিন উপস্থিতি লক্ষ্য করে ইরানের ধারাবাহিক হামলা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
নতুন করে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ভূখণ্ড এই সংঘাতের নতুন রণক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে কৌশলগত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালিতে বিরাজমান ব্যাপক সামরিক উত্তেজনার সার্বিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। পরিস্থিতি জটিল রূপ নেওয়ায় বুধবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম লাফিয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলার অতিক্রম করেছে।
Leave a comment