রাহাদুল ইসলাম সুজন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের বাসে আসন দখল ও সংরক্ষণের প্রবণতা বন্ধ এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘বাস কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন পুলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুল করিম।
পরিবহন পুলের কর্মকর্তারা বলছেন, বাস কার্ড চালু হলে শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থীর একাধিক আসন দখল করে রাখার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন, এমন ব্যক্তিদের বাসে ওঠাও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
সম্প্রতি কুবির পরিবহন বাসে যাত্রী উপস্থিত না থাকলেও ইট, খালি বোতল, ভাঙা আয়না, মোবাইলের কাভার, গাছের ডাল ও পলিথিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী রেখে আসন দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে আগে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীরাও খালি আসনে বসতে পারছেন না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে আসা অনেক শিক্ষার্থীকে আসন না পেয়ে পুরো পথ দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুল করিম বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপ-উপাচার্যের সঙ্গে পরিবহন পুলের সদস্যসচিবকে নিয়ে বৈঠক হয়েছে। এ বিষয়ে একটি নোটিশও প্রস্তুত করা হয়েছে। নোটিশটি ডিনদের কাছে পাঠানো হবে। পরে ডিনরা বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানাবেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা খুব শিগগির বাস কার্ড চালুর ব্যবস্থা করব। সামনের সপ্তাহেই বাস কার্ডের জন্য সব বিভাগে চিঠি পাঠানো হবে। শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করা হবে, কোনো সামগ্রী রেখে যেন বাসের আসন দখল করে রাখা না হয়।’
পরিবহন পুলের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পরিবহনসেবা আরও সুশৃঙ্খল করার জন্য পরিবহন কার্ড চালুর চেষ্টা করছি। কার্ড চালু হলে একজন শিক্ষার্থী অতিরিক্ত আসন দখল করে রাখতে পারবেন না। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন, এমন যাত্রীদের বাসে ওঠা নিয়ন্ত্রণেও এই উদ্যোগ কাজে দেবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও ভাড়ায় পরিচালিত মোট ২৫টি বাস রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি নীল বাস, তিনটি মিনিবাস এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) থেকে ভাড়া নেওয়া ১০টি বাস রয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এসব বাসে শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাসে আসন থাকা সত্ত্বেও কেউ আগে থেকে ব্যক্তিগত সামগ্রী রেখে তা দখল করে রাখলে নিয়ম মেনে আগে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীরা সেই আসনে বসতে পারেন না। এতে যাতায়াতের সময় শারীরিক ভোগান্তির পাশাপাশি আসন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধও তৈরি হয়।
শিক্ষার্থীদের মতে, একজন শিক্ষার্থীর জন্য একটি আসন ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আগে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীকে খালি আসনে বসার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি পরিবহন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুল করিম জানান, বাস কার্ড চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। কার্ড চালু হলে শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও বাস ব্যবহারের বিষয়টি আরও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
Leave a comment