নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের চারটি সরকারি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ১ সেপ্টেম্বর। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)।
২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পৃথক আইন পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) ভেঙে চারটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ কারণে প্রতিবছর ১ সেপ্টেম্বর চার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে চার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আনন্দ র্যালি, আলোচনা সভা, সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।
চুয়েট
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৮ সালে ‘চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ হিসেবে। পরে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), চট্টগ্রামে রূপান্তরিত হয়। ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং উন্নত করে অন্তত এশিয়ার পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান তিনি। বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করাও তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
কুয়েট
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৭ সালে ‘খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ হিসেবে। পরে এটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), খুলনায় রূপান্তরিত হয়। ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিআইটি, খুলনা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নাম ধারণ করে।
রুয়েট
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৪ সালে ‘রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ হিসেবে। পরে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), রাজশাহীতে রূপান্তরিত হয়। ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়।
রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুর রাজ্জাক বলেন, দীর্ঘ পথচলায় শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নে যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রুয়েট এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডুয়েট
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) যাত্রা শুরু হয় ১৯৮০ সালে ঢাকার তেজগাঁওয়ে ‘কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকা’ হিসেবে। ১৯৮১ সালে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ করা হয়। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), ঢাকা নামে রূপান্তরিত হয়।
২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে বিআইটি, ঢাকা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়ে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর নামে যাত্রা শুরু করে।
ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘ পথচলায় বিভিন্ন ধাপে রূপান্তরের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে।
Leave a comment